জাতীয়

দুই ডোজ গ্রহণকারীর সংখ্যা ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ছাড়াল

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল – দেশে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়লেও ফুরিয়ে আসছে এর প্রতিষেধক বা টিকার মজুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় দেশে কোভিডপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৬ হাজার ৭৮৪ জন। এ নিয়ে দেশে ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯৬ জন প্রথম ডোজ টিকা নিলেন। গত রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৮ জন। এ পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ নিলেন ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৫ জন। গত ৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শুরু হয় দ্বিতীয় ডোজ টিকাদান।

গতকাল যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে কারোরই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। গতকাল পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে মাথাব্যথা, গলাব্যথা, হালকা জ্বরের মতো সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৯৮১ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত দেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন যারা, তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৫ লাখ ৮৪ হাজার ৩৬ এবং নারী ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫০ জন। গতকাল বিকাল পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৭১ লাখ ৮৪ হাজার ৪০৬ জন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে গতকাল যারা প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ৫৯০ এবং নারী ৬ হাজার ১৯৪ জন। গতকাল প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৫ হাজার ৫৫৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৭৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ হাজার ৮৯৬, রাজশাহী বিভাগে ১ হাজার ৩৮৫, রংপুর বিভাগে ১ হাজার ৬৪৭, খুলনা বিভাগে ১ হাজার ৮১৬, বরিশাল বিভাগে ৮৭১ এবং সিলেট বিভাগে ৮৩৯ জন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা মহানগরে গতকাল প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ২ হাজার ৬৭১ জন।

দেশে গতকাল পর্যন্ত যতজন প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন ঢাকা বিভাগে ১৭ লাখ ৯১ হাজার ৮৭০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৮৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ লাখ ৭০ হাজার ৩১০, রাজশাহী বিভাগে ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৬, রংপুর বিভাগে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৫, খুলনা বিভাগে ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৩, বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৪৯ হাজার ২১৮ এবং সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৩১১ জন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা মহানগরে টিকা নিয়েছেন ৯ লাখ ১০ হাজার ৭৯৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন টিকা নেন যথাক্রমে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ জন, ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৮০, ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৪, ১ লাখ ২১ হাজার ১০ এবং ১ লাখ ৯৮৩ জন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টিকা নিয়েছিলেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬ জন। পরদিন নিয়েছিলেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৫ জন। ২৫ ফেব্রুয়ারি নেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৯ জন। এরপর থেকে টিকা নেওয়ার হার আরো কমতে থাকে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৩ জন। ২৮ ফেব্রুয়ারি নেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫২ জন।

প্রথম ডোজ টিকা গ্রহীতার সংখ্যা কমতে কমতে ১৩ হাজারে নেমে এসেছিল গত ৭ এপ্রিল। আগের দিন ছিল ১৬ হাজারের ঘরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গতকাল বুধবার দেশে কোভিডপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৬ হাজার ৮১৭ জন। গত মঙ্গলবার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৫ হাজার ৯৩৮ জন। গত সোমবার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৫ হাজার ৫৭ জন। গত রবিবার নেন ১৫ হাজার ৪৮ জন। গত শনিবার প্রথম ডোজ নেন ১২ হাজার ১৫৭ জন। গত ১৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার নিয়েছিলেন ১০ হাজার ৫৭২ জন। গত ১৩ এপ্রিল প্রথম ডোজ নেন ২৬ হাজার ৭৫০ জন। গত ১২ এপ্রিল নেন ২২ হাজার ৪৫৬ জন। গত ১১ এপ্রিল প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন ২৩ হাজার ৬৫৭ জন। গত ১০ এপ্রিল নিয়েছিলেন ১৯ হাজার ৯৪৩ জন। এর আগে ৭ এপ্রিল নিয়েছিলেন ১৩ হাজার ২৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা শুরুর দিকে বলেছিলেন, সরকার প্রতিদিন ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে টিকা দিতে প্রস্তুত। প্রথম মাসে প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সরকার। পরে এ সংখ্যা কমিয়ে ৩৫ লাখ ধরা হয়েছে।

গত ২৭ জানুয়ারি দেশে প্রথম কোভিডপ্রতিরোধী টিকা নেন এক নার্স। প্রথম দিন টিকা দেওয়া হয় বিশিষ্ট ২৬ নাগরিককে। পরদিন রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে ৫৪১ ব্যক্তিকে টিকা দেওয়া হয়। আর ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে শুরু হয় কোভিডপ্রতিরোধী গণটিকাদান কার্যক্রম। ওইদিন সারা দেশে টিকা নিয়েছিলেন ৩১ হাজার ১৬০ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৩ হাজার ৮৫৭ এবং নারী ৭ হাজার ৩০৩ জন।

বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড। সবাইকে এ টিকার দুটি করে ডোজ নিতে হবে। সরকারের কেনা এ টিকার ৩ কোটি ডোজের মধ্যে প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ আসে গত ২৫ জানুয়ারি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া ভারতের উপহার হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি ২০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ডের টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় চালানে এসেছে আরো ২০ লাখ ডোজ। সবশেষ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে ১২ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পাওয়া গেছে।

সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ
এন এইচ, ২৩ এপ্রিল


Back to top button
🌐 Read in Your Language