জাতীয়

পোশাক খাতে অসন্তোষের নেপথ্যে ‘সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

ঢাকা, ০২ নভেম্বর – দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্পে হঠাৎ দেখা দেওয়া অস্থিতিশীলতার নেপথ্যে ‘সীমান্তের ওপার থেকে’ ইন্ধন জোগানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের ঢাল বানিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাণিজ্য স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক এক জরুরি বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।

মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি ও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, পোশাক শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

আগাম মজুরি বোর্ড গঠন: প্রতি তিন বছর পর পর মজুরি বোর্ড গঠনের নিয়ম অনুসারে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় থাকলেও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে আগেই উদ্যোগ নেয়। শনিবার রাতে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর রোববার সকালেই নতুন মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

টেবিলেই হবে সুরাহা: মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবেন। আলোচনার এই সহজ পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় নেমে সহিংসতার কোনো যুক্তিকতা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘সহিংসতা বরদাশত নয়, কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ’

আন্দোলনের অজুহাতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, গণপরিবহন ভাঙচুর ও কারখানায় আগুন দেওয়ার মতো অপকর্মের কঠোর সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন:

সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: আন্দোলনের নামে যারা বিশৃঙ্খলা, ভাংচুর বা নাশকতায় জড়াবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সীমান্তের ওপারের চক্রান্ত: সরকারি তথ্য ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সীমান্তের ওপার থেকে উসকানি দিয়ে নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। এই অপতৎপরতা যেকোনো মূল্যে ভণ্ডুল করে দেবে সরকার।

কারখানা চালু রাখা ও জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ

বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের গোড়াপত্তন ও বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী অবদানের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় এই খাত আরও এগিয়ে যাক, রপ্তানি বৃদ্ধি পাক এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক।

সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত চালু রাখার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে দেশের স্বার্থে রপ্তানি পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

উচ্চপর্যায়ের এই পর্যালোচনা বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

এনএন/ ০২ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language