জাতীয়

নারী ও শিশুর উন্নয়নে ইউনিসেফের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

ইউনিসেফ

ঢাকা,১৯ অক্টোবর-মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা, কিশোরীদের ক্ষমতায়ন, শিশুসুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করতে ইউনিসেফের সঙ্গে আরও কার্যকর ও ফলাফলভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সফররত ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেলের সঙ্গে আলোচনাকালে এ প্রত্যাশার কথা জানান।

বৈঠকে নারী ও শিশুর উন্নয়ন এবং কল্যাণে বাংলাদেশ ও ইউনিসেফের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের নারী ও শিশুর উন্নয়ন ও কল্যাণে ইউনিসেফের অবদানের প্রশংসা করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, নারী ও শিশুর মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদার করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে সরকার স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করেছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শামা বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে তিনি দারিদ্র্য, সামাজিক রীতিনীতি, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং মেয়েদের সীমিত সুযোগসহ এর অন্তর্নিহিত আর্থসামাজিক কারণগুলো মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লিঙ্গভিত্তিক ঝুঁকি, অনলাইন হয়রানিসহ নারীর প্রতি সহিংসতা এবং কিশোর অপরাধের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ নিউইয়র্কে মেটার কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি কিশোর অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া আরও বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ইউনিসেফের সহায়তার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল শিশুমৃত্যু ও শিশুর খর্বাকৃতির হার কমানো, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও জন্মনিবন্ধনের হার বাড়ানো এবং নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন সুবিধার আওতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

তিনি সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস দেন।

ইউনিসেফের পক্ষ থেকে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ, উপপ্রতিনিধি এমানুয়েল আবিরু এবং শিশুসুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরিন ক্যাথরিন। এ ছাড়া পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং মহাপরিচালক কাজী এহসানুল হকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এস এম/ ১৯ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language