প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির আবেদন শুরু ২৫ অক্টোবর

ঢাকা,১৯ অক্টোবর-প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার জন্য আবেদন আহ্বান করেছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান এবং ২০২৫ সালের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে, যা চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড গত ৬ অক্টোবর এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি বা সমমান কিংবা ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে পড়াশোনা করছেন, এমন শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে, ওই বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম সেমিস্টার বা বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে শিক্ষার্থীর বাবা বা মাকে বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণকারী অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে হবে। একজন প্রবাসী কর্মীর সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এসএসসি ও সমমান-২০২৬ পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৫ থাকতে হবে। তবে প্রবাসে মারা যাওয়া কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৪ হলেই আবেদন করা যাবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ যথাক্রমে ৪.৭৫ ও ৪ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এইচএসসি ও সমমান-২০২৫ পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ-৪.৮০ থাকতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ হতে হবে ৪.৫০। তবে প্রবাসে মারা যাওয়া কর্মীদের সন্তানদের জন্য উভয় বিভাগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৪ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ-৩.২৫ থাকতে হবে। প্রবাসে মারা যাওয়া কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ হতে হবে ৩।
আবেদনের সঙ্গে প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টের কপি, বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদের প্রমাণপত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট, ছবি, স্বাক্ষর এবং জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে। প্রত্যয়নপত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইল নম্বরও উল্লেখ থাকতে হবে।
প্রবাসে মারা যাওয়া কর্মীর সন্তানদের আবেদনের সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকে ইস্যু করা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) জমা দিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীর নিজের নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে হিসাব থাকতে হবে। তবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হিসাব গ্রহণ করা হবে না।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির মেয়াদ একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দুই বছর। ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বৃত্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ডিগ্রি (পাস) কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা তিন বছর এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা চার বছর বৃত্তি পাবেন। এমবিবিএস, বিডিএস, ডিভিএম, বি.আর্ক ও অন্যান্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বৃত্তির মেয়াদ পাঁচ বছর।
ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির মেয়াদ চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের https://portal.wewb.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সরাসরি অথবা ডাকযোগে পাঠানো কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্টে থাকা নামের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সনদে উল্লেখ করা বাবা বা মায়ের নামের অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ছাড়া অসম্পূর্ণ আবেদন এবং ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে, এমন আবেদনও বাতিল বলে গণ্য হবে।
বৃত্তিসংক্রান্ত তথ্য জানতে প্রবাসী কল সেন্টারের ১৬১৩৫ নম্বরে (দেশ থেকে, টোল ফ্রি) অথবা +৮৮০৯৬১০২০৩০৩০ নম্বরে (বিদেশ থেকে) যোগাযোগ করা যাবে।
এ ছাড়া জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকেও এ বিষয়ে তথ্য নেওয়া যাবে।
এস এম/ ১৯ অক্টোবর ২০২৬







