হরমুজ প্রণালিতে বিকট বিস্ফোরণ: মাইনে ট্র্যাকার ট্যাংকার আঘাতের শঙ্কা, চরম ঝুঁকিতে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ

তেহরান, ০৯ অক্টোবর – আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ও বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সামরিক সূত্রের বরাতে বিশ্ববাসীকে এই খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, তেলবাহী বাণিজ্যিক ট্যাংকার সামুদ্রিক মাইনে আঘাত করার কারণে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণগুলোর উৎপত্তি হতে পারে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রণালির কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর দক্ষিণ অংশে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে এই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটে।
অনুমোদনহীন পথে চলাচলেই বিপত্তি? আইআরআইবি-র দাবি
ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তেলবাহী ট্যাংকারগুলো তেহরান কর্তৃক নির্ধারিত ও অনুমোদিত নিরাপদ চ্যানেল এড়িয়ে গিয়েছিল। ইরানের অনুমতি না নিয়ে তৈরি করা অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করতে গিয়েই ট্যাংকারগুলো ওই এলাকায় পূর্বে পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইনে আঘাত করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিস্ফোরণের শিকার ট্যাংকারগুলোর মোট সংখ্যা কত, সেগুলোর মালিকানা বা পতাকা কোন দেশের, ঘটনায় কোনো হতাহত হয়েছে কি না কিংবা পরিবেশগত কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে—এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
উত্তপ্ত বঙ্গোপসাগর থেকে পারস্য উপসাগর: কেন এই চরম সংকট?
হরমুজ প্রণালিতে বেশ কিছুদিন ধরে সামরিক উত্তাপ মারাত্মক মাত্রায় বাড়ছিল। তেহরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে ইরান আগেই সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছিল—তাদের সরকারি অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত নৌপথ পরিবর্তন বা অন্য কোনো অননুমোদিত রুট ব্যবহার করলে জাহাজগুলোকে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে।
বিশ্বের মোট ব্যবহৃত খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহের মূল ধমনি হলো এই হরমুজ প্রণালি। বিস্ফোরণের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তাপকে কেবল আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিল না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর বড় আকারের শঙ্কার মেঘ তৈরি করলো।
এনএন/ ০৯ অক্টোবর ২০২৬







