ব্যবসা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খেসারত: চাল-পেঁয়াজ ও তেলের বাজারে নতুন উত্তাপ

ঢাকা, ০৯ অক্টোবর – জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ছুতো ধরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামে ফের আগুন লেগেছে। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি এবং মিল পর্যায়ে দর বাড়ানোর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীর খুচরা চালের বাজারে। মাত্র এক থেকে দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে সরু চাল কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা এবং মাঝারি মানের চাল ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চালের পর উত্তাপ ছড়িয়েছে দেশি পেঁয়াজ, রসুন ও খোলা সয়াবিন তেলেও। এদিকে আমিষের বাজারে কোনো স্বস্তি নেই—ব্রয়লার মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে আগের সেই চড়া দামেই।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, ঐতিহাসিক টাউন হল বাজার এবং আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের এই উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে।

চালের বাজার পরিস্থিতি: মিনিকেট থেকে নাজিরশাইল, দর বেড়েছে সবখানেই

খুচরা বাজারে ব্র্যান্ডভেদে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত লাফিয়েছে:

মিনিকেট চাল: ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৭৫ টাকায় (যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৭২ টাকা)। রশিদের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায় এবং মোজাম্মেল মিনিকেটের দাম বেড়ে ছুঁয়েছে ৭৬ টাকা।

নাজিরশাইল ও মাঝারি চাল: মানভেদে সরু নাজিরশাইল চাল এখন ৭০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি মানের পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় উঠেছে। তবে মোটা চালের দাম তুলনামূলক স্থির রয়েছে (৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি)।

এক নজরে বাজারের বর্তমান মূল্যের চিত্র

  • মিনিকেট চাল ৭৪ – ৭৬ টাকা, কেজিতে ২ – ৩ টাকা বৃদ্ধি
  • নাজিরশাইল চাল ৭০ – ৯৫ টাকা, কেজিতে ২ – ৩ টাকা বৃদ্ধি
  • মাঝারি চাল (ব্রি-২৮/২৯, পাইজাম) ৫৮ – ৬৫ টাকা, কেজিতে ৩ টাকা বৃদ্ধি
  • দেশি পেঁয়াজ ৫৫ – ৬০ টাকা, কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি
  • রসুন চড়া দর, কেজিতে ২০ – ৩০ টাকা বৃদ্ধি
  • খোলা সয়াবিন তেল, বাড়তি দর |২ সপ্তাহের ব্যবধানে লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি
  • ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা কেজি, উচ্চমূল্যে স্থির
  • ফার্মের ডিম ১৫০ – ১৫৫ টাকা ডজন, উচ্চমূল্যে স্থির

ব্যবসায়ী বনাম খুচরা বিক্রেতা: দাম বাড়ার পেছনের মূল কারণ কী?

চালের আকাশছোঁয়া দামের পেছনে ব্যবসায়ী ও মিল মালিকেরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে মূল অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করছেন:

১. পরিবহন খরচের বড় লাফ: তেলের দাম বাড়ায় প্রতি ট্রিপে ট্রাকভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ধান সংগ্রহ থেকে আড়ত পর্যন্ত কয়েক ধাপে পরিবহনের প্রয়োজন হওয়ায় পাইকারিতে এর সরাসরি আঘাত এসেছে।

২. ধানের চড়া দাম: নওগাঁসহ দেশের বড় বড় মোকামে ধানের দর বাড়ায় মিল মালিকরা বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) কাটারি চালের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন।

৩. তদারকির অভাব ও অজুহাত: তবে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি—বাজার তদারকির অভাবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিবহন খরচ যতটুকু বেড়েছে, তার চেয়েও অনেক বেশি হারে চাল ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে সুযোগ নিচ্ছেন।

মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস

চাল, তেল ও পেঁয়াজের মতো দৈনন্দিন মৌলিক উপাদানের দাম একযোগে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন সীমিত ও মধ্যম আয়ের সাধারণ মানুষ। ব্রয়লার মুরগি (২০০ টাকা/কেজি) এবং ডিমের ডজন (১৫০-১৫৫ টাকা) উচ্চমূল্যে আটকে থাকায় সাধারণ মানুষের পুষ্টি চাহিদা মেটানোও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কঠোর বাজার মনিটরিং ও অসাধু চক্র দমনে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ নাগরিকদের এই দুর্ভোগ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এনএন/ ০৯ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language