ক্রিকেট

এশিয়ান গেমসে কোনো ম্যাচ না জিতেই ফিরল বাংলাদেশ, ব্যর্থতার দায় স্বীকার কোচের

ঢাকা, ০৩ অক্টোবর-বরাবরই বড় স্বপ্ন আর প্রত্যাশা নিয়ে খেলতে গেলেও অধিকাংশ টুর্নামেন্ট থেকেই হতাশ হয়ে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে। সদ্য শেষ হওয়া এশিয়ান গেমস খেলতে দেশ ছাড়ার আগেও সোনা জেতার লক্ষ্য জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। অথচ এই আসরে খেলে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে না খেলেই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের। শেষ চারে পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই একটি পদক নিশ্চিত হতো। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নেমে মুখ থুবড়ে পড়ে টাইগাররা। এই হারের ফলে সোনা কিংবা রুপা জেতার সুযোগ হারায় লিটন দাসের দল।

এরপরও ব্রোঞ্জ জেতার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। সেই লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে হেরে যায় টাইগাররা। এমন হারের পর সমালোচনার মুখে পড়েছে দল। ম্যাচ শেষে কোচ সালাউদ্দিন দর্শকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।

সালাউদ্দিন বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

তবে অধিনায়ক লিটন ব্যর্থতা স্বীকার করলেও যেন অনুতপ্ত নন। লিটন বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক বিষয়। আমরা দেশ থেকে যখন এসেছি, একটা বড় টার্গেট নিয়ে এসেছি। যখন সেরাটা দিতে পারিনি, টিম হিসেবে, ক্যাপ্টেন হিসেবে সবারই খারাপ লাগবে এবং খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ টিম অনেক কিছুই দিয়েছে অতীতে। আমার মনে হয় ভবিষ্যতেও দেবে। আমরা ওইটার জন্যই চেষ্টা করব আবার।’

লিটনের এমন উত্তর অবশ্য নতুন নয়। কারণ ব্যাট হাতে কখনোই ধারাবাহিক হতে না পারলেও সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নিজের পক্ষে সাফাই দিয়ে চলেন তিনি। সাদা বলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন লিটন, যে কারণে তার কাছ থেকে বাড়তি প্রত্যাশা থাকে ভক্তদের। সেখানে তিনি একেবারেই ব্যর্থ।

এমন ব্যর্থতায় সবার আগে ব্যাটারদের দায় নিতে হবে। কারণ কোনো ম্যাচেই ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারেননি। তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসানরা ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ। লিটন দাসও রান পাননি।

প্রশ্ন উঠতে পারে দল নির্বাচন নিয়েও। পাকিস্তানের বিপক্ষে আলিস আল ইসলামকে না খেলানো নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। স্পিন সহায়ক উইকেটে বাড়তি পেসার খেলানোও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত ছিল।

দলের এমন ব্যর্থতা নিয়ে বিসিবির শীর্ষ এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘এমন হার অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক, মন খারাপ হওয়ার মতোই বিষয়। আমরা সোনা জয়ের জন্যই জাতীয় দল নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না। এটা দুঃখজনক। ব্যাটারদের দায়িত্ব নিয়ে আরও খেলতে হতো, সেটা তারা করতে পারেনি। স্পিনাররা ভালো করেছে। দলটা কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতোই ছিল। জাতীয় দল এজন্যই পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তারা ব্যর্থ।’

ম্যাচের আগের দিন এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরেছেন তাওহীদ হৃদয়, সাইফ হাসান ও রিশাদ হোসেন—এই তিন ক্রিকেটার। যার প্রভাব পড়েছে আজ দুই ব্যাটারের পারফরম্যান্সে। সাইফ ও হৃদয় দুজনই ব্যর্থ হয়েছেন। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাদের আর্থিক জরিমানার মুখেও পড়তে হচ্ছে। বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘আমরা জেনেছি এমনটা। তবে খেলা চলাকালে এমনটা ঠিক না। এশিয়ান গেমসে যে লক্ষ্য নিয়ে গিয়েছিলাম, সেটা সফল হলো না।’

এস এম/ ০৩ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language