দেশের অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম

ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর – দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক খবর প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ (Gross Reserves) বেড়ে ৩৬ হাজার ৩০৮ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন (৩৬.৩০ বিলিয়ন) ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সাথে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি প্রবাসী আয়েও (রেমিট্যান্স) বড় ধরনের উর্ধ্বমুখী ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মুনসি আনুষ্ঠানিকভাবে রিজার্ভের এই শক্ত অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা: সাধারণ ও আইএমএফ হিসাব
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
মোট রিজার্ভ (Gross Reserves): ৩৬.৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ব্যবহারযোগ্য নিট রিজার্ভ (IMF BPM6): আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৪৫২ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন বা ৩১.৪৫ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভের এই উর্ধ্বমুখী ধারা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
রেমিট্যান্সের চমকপ্রদ উল্লম্ফন: প্রবৃদ্ধি ১৩.৮%
রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে:
চলতি মাসের অবস্থান: সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা বিনিময় হার হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৩ হাজার ৮৭ কোটি টাকারও বেশি (এর মধ্যে কেবল ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর—এই ৩ দিনেই এসেছে প্রায় ১৩ কোটি ডলার)।
অর্থবছরের সার্বিক চিত্র: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু (জুলাই) থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৭৭০ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
বার্ষিক প্রবৃদ্ধি: গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে সুনির্দিষ্ট ১৩.৮% প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর এই জোয়ার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মজবুত রিজার্ভের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি টেকসই ও গতিশীল মোড়ে নিয়ে গেছে।
এনএন/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬







