আইন-আদালত

১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও বাতিলের সুযোগ নেই: নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর – নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলেও মামলার আইনি বৈধতা হারাবে না এবং বিচারকাজ বাতিল বা স্থগিত করা যাবে না। হাইকোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী রায়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, আইনের ১৮০ দিনের সময়সীমাটি “বাধ্যতামূলক” নয়, বরং তা নির্দেশনামূলক।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিচারপতি কে. এম. কামরুল কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই বড় ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে ২০০৮ সালে রাজধানীর শ্যামপুর থানায় আসামি মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ গঠনের পর বিচারকাজ নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ না হওয়ার অজুহাতে আসামি পাভেল হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিটে দাবি করা হয়, ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন না হওয়া এবং কারণ জানিয়ে ঊর্ধ্বতন সংস্থাকে প্রতিবেদন না দেওয়া আইনের ধারা অনুযায়ী বেআইনি, তাই বিচার বাতিলযোগ্য।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে:

আইনের ধারা বিশ্লেষণ: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১ক ধারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে আদালত জানান, নির্দিষ্ট ১৮০ দিনে বিচার শেষ করতে না পারলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিতাংশের কোনো আইনি পরিণতির বিধান আইনে দেওয়া হয়নি।

সময়ের বাধ্যবাধকতা: ট্রাইব্যুনালকে দ্রুত বিচার শেষের তাগিদ দেওয়া দায়িত্বের অংশ হলেও, অতিরিক্ত সময় লাগার কারণে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি মামলার সুবিধা নিয়ে অব্যাহতি পেতে পারেন না।

রিটের উদ্দেশ্য নিয়ে অসন্তোষ: আবেদনকারী আসামি কৌশল অবলম্বন করে বিগত দিনের বেশ কিছু বিচারিক আদেশ গোপন করে বিচার বিলম্বিত করার সুযোগ নিতে চেয়েছিলেন, যা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা হাজরো মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে আর কোনো আইনি ধোঁয়াশা রইল না। আইনি জটিলতাকে ঢাল বানিয়ে বিচার এড়ানোর পথ বন্ধ হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এনএন/ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language