জাতীয়

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৫৮ হাজার অভিযোগ, সংসদে তথ্য দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ আগস্ট – দেশের বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ৫৮ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রবিবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগে গ্রাহকদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। বিভিন্ন অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায় আটকে থাকা ৫৩১ কোটি টাকার মধ্যে ইতিমধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

শেরপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ই-কমার্স খাতের আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এই আলোচনা সূত্রপাত হয়। তিনি ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম ও আলেশা মার্টের মতো প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। বর্তমানে ১ হাজার ৯০২টি কোম্পানিকে ডিজিটাল ব্যবসা পরিচিতি বা ডিবিআইডি প্রদান করা হয়েছে।

সংসদে মন্ত্রী আরও জানান, গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ী অর্থ গ্রহণ ও নিরাপদে অর্থ সংরক্ষণ সেবা নীতিমালা কার্যকর করেছে। এর ফলে পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ার আগে বিক্রেতা অর্থ পায় না। এছাড়া ভবিষ্যতে ই-কমার্স খাতের জন্য একটি পৃথক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এই কর্তৃপক্ষ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও বিবেচনাধীন।

ই-কমার্সের শুরুতে আইন ও তদারকির ব্যবস্থায় অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন কর্তৃপক্ষের প্রধান কাজ হবে ডিজিটাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত নজরদারিতে রাখা।

সংসদ সদস্যের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন কর্তৃপক্ষের কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

এনএন/ ৩০ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language