বিশ্বকাপ ফাইনাল: মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও স্পেন, মেসি বনাম ইয়ামাল লড়াইয়ের অপেক্ষা

মাদ্রিদ, ১৭ জুলাই – নিউইয়র্কের ম্যানহাটন স্কাইলাইনে ড্রোন শো’র মাধ্যমে স্পেন ও আর্জেন্টিনার পতাকা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ফুটবল বিশ্বে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের আবহ তৈরি হয়েছে। আগামী রবিবার দিবাগত রাতে ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপসেরা স্পেন।
২০২২ সালে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে শিরোপা জয়ের চার বছর পর আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগ রয়েছে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের মুকুট ধরে রাখার। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকার সেরা দল হওয়া সত্ত্বেও এই ফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামছে।
তাদের সামনে প্রধান বাধা টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট স্পেন এবং ফুটবল বিশ্বের নতুন বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই স্পেনকে এক নম্বর দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমানে দেম্বেলের শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।
স্পেনের এই স্কোয়াডে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় না থাকলেও বার্সেলোনার তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে এক দুর্দান্ত রসায়ন লক্ষ্য করা গেছে। মাঝমাঠে ম্যানচেস্টার সিটির ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা রদ্রি এবং ফ্যাবিয়ান রুইস ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারদর্শী।
আক্রমণভাগে দানি ওলমো এবং মিকেল ওয়ারজাবাল ফর্মে থাকলেও সবার নজর থাকছে ১৯ বছর বয়সী তারকা লামিনে ইয়ামালের ওপর। চোটের কারণে কিছুটা মলিন থাকলেও বড় ম্যাচে ইয়ামাল পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে এই টুর্নামেন্টের ঘুরে দাঁড়ানোর কারিগর বলা হচ্ছে।
৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি এই দলের প্রধান চালিকাশক্তি। চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন তিনি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও মেসির অসাধারণ দক্ষতায় ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা এবং শেষ পর্যন্ত লাউতারো মার্তিনেসের গোলে জয় নিশ্চিত করে।
ফাইনালে জুলিয়ান আলভারেস এবং জিউলিয়ানো সিমিওনে আক্রমণভাগের দায়িত্ব সামলাবেন। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রাখার বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে মাক আলিস্তার ও এনসো ফের্নান্দেসদের ওপর। স্পেনের তিকিতাকা কৌশলের বিপরীতে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। বার্সেলোনার অতীত ও বর্তমানের এই লড়াইয়ে কার হাসি ফুটবে তা নিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্ব এখন উন্মুখ।
এস এম/ ১৭ জুলাই ২০২৬









