মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে বাংলাদেশ

ঢাকা, ১৬ জুলাই – মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া উত্তেজনায় টালমাটাল হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যে তেল কিনে দেশের বাজারে তা কম মূল্যে সরবরাহ করতে গিয়ে সংস্থাটি আবারও বড় অঙ্কের লোকসানের শিকার হতে পারে।
জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, চলতি বছরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বা এলএনজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। এর প্রভাবে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম সমন্বয় না করায় সরকারকে ইতোমধ্যে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে।
এর মধ্যে শুধু মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসে তেল আমদানিতেই বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। বাজার বিশ্লেষণী সংস্থা ট্রেডিং ইকোনমিকস জানিয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১.১২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮০.২৩ ডলারে পৌঁছেছে।
পাশাপাশি লন্ডনের ব্রেন্ট তেলের দামও ০.৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫.৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে এলএনজি আমদানি নিয়েও দুশ্চিন্তা কাটছে না। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরবরাহ না পাওয়ায় পেট্রোবাংলাকে এখন পুরোপুরি স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বর্তমান এই সংকট মোকাবিলায় সরকার সরাসরি বা জিটুজি পদ্ধতিতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক দশটি প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সাশ্রয়ী প্রিমিয়ামে এই তেল আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এই উদ্যোগের সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারকে হয় বড় অঙ্কের ভর্তুকি প্রদান করতে হবে, অন্যথায় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে সমন্বয় করতে হবে। উভয় ক্ষেত্রেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এস এম/ ১৬ জুলাই ২০২৬









