বিশ্বকাপের রোমাঞ্চের মাঝে দাদিকে নিয়ে আবেগপ্রবণ ভিনিসিয়াস জুনিয়র

ব্রাসিলিয়া, ২৯ জুন – ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান শক্তি ভিনিসিয়াস জুনিয়র। চলমান বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ৪টি গোল করে তিনি বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছেন। অতীতে যেসব ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করেছেন, তাদের শিরোপা জয়ের নজির রয়েছে।
ফলে ভিনিসিয়াসের এই পারফরম্যান্স ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে থাকা ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের স্বপ্নকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাউন্ড অব থার্টি টুর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো টিভিকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।
সেখানে তিনি তার শৈশব, জীবনসংগ্রাম, দাদির সঙ্গে আবেগঘন সম্পর্ক এবং ফুটবলে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তার অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। ভিনিসিয়াস জানান, তার বেড়ে ওঠার পেছনে দাদির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি দাদির সঙ্গেই ছিলেন এবং তাকেই জীবনের প্রধান অবলম্বন বলে মনে করেন।
ভিনিসিয়াস বলেন, আমার বাবা কর্মব্যস্ততার কারণে প্রায়ই বাইরে থাকতেন। তখন মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে দাদিই সবকিছুর দেখাশোনা করতেন। ছোটবেলায় দাদির সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানোর স্মৃতিগুলো আমার কাছে আজীবন অমলিন থাকবে। তিনি আমার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন।
মাঠের সাফল্যের চেয়েও মাঠের বাইরের ইতিবাচক প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দেন এই ফুটবলার। তিনি বিশ্বাস করেন, তার অবস্থানের মাধ্যমে অনেক মানুষের সেবা করা সম্ভব। ফুটবলে বর্ণবাদের শিকার হওয়া নিয়ে ভিনিসিয়াস তার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইউরোপের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়া এই তারকা চান তার লড়াইয়ের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম যেন একটি বৈষম্যহীন ফুটবল বিশ্ব পায়। তিনি বলেন, আমি সেই সব মানুষের হয়ে কথা বলতে চাই যাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে বর্তমানে ৪ গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। নিজ দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি গর্বিত। গ্রুপ সি এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ব্রাজিল এবারও তাদের রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রেখেছে। ১৯৮২ সাল থেকে টানা ১২টি বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান ধরে রাখার ৪৪ বছরের এক অনন্য কীর্তি গড়েছে সেলেসাওরা।
এস এম/ ২৯ জুন ২০২৬









