৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আলটিমেটাম

ঢাকা, ৬ জুন – রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে সরকারি তদন্ত কমিটি। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ জবাব দিতে না পারলে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নোটিশের জবাব দেওয়ার সময়সীমা রবিবার শেষ হতে চললেও এখন পর্যন্ত হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার আইনি দিক, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষমা চাওয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণার পাশাপাশি আইনি বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর এরই মধ্যে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এ সিদ্ধান্তকে একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সরকার। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে দেখা গেছে সম্ভবত একটি ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় এসি না থাকার কারণে অক্সিজেন স্বল্পতা তৈরি হয়েছিল।
এর ফলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের চরম অবহেলায় এই প্রাণহানি ঘটে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে ১ জুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি হাসপাতালের পরিচালক, শিশু বিভাগের প্রধান, এনআইসিইউর চিকিৎসক, নার্স এবং মৃত নবজাতকদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য গ্রহণ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতাল পরিচালনায় ১৯৮২ সালের বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি অধ্যাদেশের বিধানগুলো যথাযথভাবে মানা হয়নি। এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হবে না, তার যৌক্তিক কারণ দর্শাতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এস এম/ ৬ জুন ২০২৬









