কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ, লক্ষ্য এখন মাংস রপ্তানি

ঢাকা, ৪ জুন – বাংলাদেশ এখন কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। সরকারের বর্তমান লক্ষ্য হচ্ছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত পশু ও মাংস বিদেশে রপ্তানি করা। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এসব তথ্য জানান।
বিদেশ থেকে পশু বা মাংস আমদানির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সীমান্তপথে অবৈধ উপায়ে পশু প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন এবং কোরবানির পশুর বাজার সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে দেশের চাহিদার তুলনায় গবাদি পশুর উৎপাদন বেশি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই অতিরিক্ত উৎপাদনকে কাজে লাগিয়ে মাংস রপ্তানির ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশে ১৩টি আধুনিক মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
বেসরকারি খাতও সীমিত পরিসরে রপ্তানি শুরু করেছে এবং সরকার বড় খামারিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, পশুপালনের প্রধান ব্যয় হচ্ছে খাদ্যের পেছনে। খাবারের দাম বেশি হওয়ার কারণে বাজারে মাংসের দাম কিছুটা চড়া। এই ব্যয় কমাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮৩৫ জন ক্ষুদ্র খামারিকে এই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। উন্নত মানের ঘাস ব্যবহারের ফলে পশুর খাদ্য বাবদ খরচ অনেক কমে আসবে এবং একই সঙ্গে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরকার এখন ফিড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে ঘাসভিত্তিক পশুপালনে খামারিদের বেশি উৎসাহিত করছে। পশু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার রোধ করতে মাঠপর্যায়ে কড়া নজরদারি ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাজারে মাংসের দাম কমানোর প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে পারলে খুব দ্রুতই মাংসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে। খামারিরা যেন লোকসানের মুখে না পড়েন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা অর্জন করেন সেজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এস এম/ ৪ জুন ২০২৬









