জাতীয়

ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ঝরল ৬ কৃষকের প্রাণ!

ঢাকা, ৬ মে – কালবৈশাখীর মৌসুমে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে প্রকৃতির রুদ্ররোষে ঝরল ৬টি তাজাপ্রাণ। বুধবার (৬ মে) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে নওগাঁ, ময়মনসিংহ, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে আকস্মিক বজ্রপাতে এসব নিহতের ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহতদের প্রায় সকলেই তখন খোলা মাঠে বোরো ধান কাটার পরিশ্রমে ব্যস্ত ছিলেন।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায়।

মহাদেবপুর: দুপুরে খাজুর ইউনিয়নের কুড়াপাড়া গ্রামের দিলিপ চন্দ্র বর্মণ নিজের জমিতে ধান কাটছিলেন। এ সময় প্রচণ্ড শব্দে তার ওপর বজ্রপাত হলে তিনি মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিয়ামতপুর: চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ধান নিয়ে ফেরার পথে মৃত্যু হয় অনুকূল চন্দ্র মাহন্তের। অন্যদিকে, হাজিনগর ইউনিয়নের খোদ্দচাম্পা গ্রামে ধান কাটার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা এক অজ্ঞাতনামা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ওই শ্রমিকের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে বিকেল ৩টার দিকে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে এক কৃষক বজ্রপাতে নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মাঠ থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি। আকস্মিক বিদ্যুৎ চমকানির সাথে সাথে তিনি মাটিতে ছিটকে পড়েন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় ইউসুফ আলী (৪০) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্যারহাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর পুনরায় ক্ষেতে কাজে ফিরলে তিনি বজ্রপাতের শিকার হন। চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন যে, বজ্রপাতের প্রচণ্ড আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌর শহরের ওবাইদুল ইসলাম নিজ জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাগেশ্বরী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হীল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এনএন/ ৬ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language