জ্বালানি সংকটে টালমাটাল বৈশ্বিক বিমান পরিষেবা খাত

তেহরান, ২১ এপ্রিল – ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বিমান পরিষেবা খাতে। জেট ফুয়েলের তীব্র সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইন্সগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় এবং শিডিউল বাতিলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের এই ভরা মৌসুমে জ্বালানি সংকট সাধারণ যাত্রীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ তবে বিশ্ববাজারের নেতিবাচক প্রভাবে সেখানেও জ্বালানির দাম অনেক বেড়েছে।
এর ফলে ডেল্টা এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাজেটে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত খরচের আশঙ্কা করছে। জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে অনেক এয়ারলাইন্স তাদের সাশ্রয়ী টিকিট অফার কমিয়ে দিয়েছে। কোনো কোনো কোম্পানি লোকসান এড়াতে কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি যুদ্ধের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলেও জেট ফুয়েলের সরবরাহ ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরতে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
জ্বালানি সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটাকে। বৈশ্বিক সমুদ্রপথের প্রায় ২০ শতাংশ জেট ফুয়েল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয় যার বড় একটি অংশ যায় ইউরোপে। এছাড়া কুয়েত ও বাহরাইনের মতো রপ্তানিকারক দেশগুলোর জ্বালানি এখন যুদ্ধের কারণে আটকে আছে। এশিয়ার দেশগুলো বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া যারা জ্বালানি পরিশোধনে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে তারাও মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল না পাওয়ায় রপ্তানি কমিয়ে দিতে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা আইএটিএ এর মতে সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হতে পারে বাজেট এয়ারলাইন্সগুলো। স্পিরিট এয়ারলাইন্সের মতো স্বল্পমূল্যের পরিষেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য বজায় থাকলে ছোট ও মাঝারি অনেক এয়ারলাইন্স বাজার থেকে ছিটকে যেতে পারে। আর বাজারে প্রতিযোগিতা কমে গেলে বড় এয়ারলাইন্সগুলো একচেটিয়াভাবে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে।
এস এম/ ২১ এপ্রিল ২০২৬









