ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল পাস, দুর্বল ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ

ঢাকা, ১২ এপ্রিল – অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। তবে এই বিলে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই ধারার মাধ্যমে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুরোনো শেয়ারধারীদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিলের ১৮(ক) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, অন্য কোনো আইন বা এই আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫ এর অধীনে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ারধারক অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে উপযুক্ত বিবেচিত ব্যক্তি রেজোল্যুশন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবেন।
এই আবেদনের উদ্দেশ্য হবে ওই ব্যাংকের শেয়ার এবং সম্পদ ও দায় পুনরায় নিজেদের অধিকারে নেওয়া। তবে এর জন্য আবেদনকারীকে পৃথক একটি অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। অঙ্গীকারনামায় বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রেজোল্যুশনভুক্ত হওয়ার আগে বা পরে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংক পরিচালনার ইচ্ছা প্রকাশ করা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত নতুন মূলধন সরবরাহ এবং বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো সরকারি ও আধা সরকারি উৎস থেকে নেওয়া ঋণ, সুদ, মুনাফা বা আর্থিক সহায়তা পুরোপুরি ফেরত দিতে হবে। একইসঙ্গে একীভূত হওয়ার আগের আমানতকারী, পাওনাদার এবং তৃতীয় পক্ষের বৈধ দাবি যথাযথভাবে মেটানোর পাশাপাশি সরকারের সব ধরনের কর ও রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে। এই ধারার উপধারা ৩ অনুযায়ী, আবেদন চূড়ান্তভাবে মঞ্জুর হওয়ার তিন মাসের মধ্যে এবং মালিকানা হস্তান্তরের আগে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অর্থের সাড়ে ৭ শতাংশ পে অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
উপধারা ৪ এ বলা হয়েছে, বাকি সাড়ে ৯২ শতাংশ অর্থ শেয়ার হস্তান্তরের দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদসহ ফেরত দিতে হবে। অধ্যাদেশের মূল কাঠামোর বেশিরভাগ অংশই বিলে বহাল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোল্যুশন কর্তৃত্ব, প্রশাসক নিয়োগ, মূলধন বাড়ানো, তৃতীয় পক্ষের কাছে দায় হস্তান্তর, ব্রিজ ব্যাংক তৈরি, অবসায়ন এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান উল্লেখযোগ্য।
এস এম/ ১২ এপ্রিল ২০২৬









