সারিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, তবে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক

বগুড়া, ১০ এপ্রিল – আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের চমৎকার ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ মাত্র ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই মূল্য উৎপাদন খরচের চেয়েও কম হওয়ায় কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পারছেন না। বাজারে দাম তলানিতে থাকায় অনেক কৃষক এখনো জমি থেকে পরিপক্ব পেঁয়াজ তুলছেন না। তারা পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার ধাপ গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া জানান, যমুনা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জেগে ওঠা চরাঞ্চলে তিনি এ বছর ১১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। সার, সেচ, কীটনাশক, বীজ ও শ্রমিক মিলিয়ে তার ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ টাকার বেশি। ভালো ফলন হলেও বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হওয়ায় তিনি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক কষ্ট করে চাষ করেও দাম না থাকায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন। তার মতে, সরকার যদি প্রতি মণ পেঁয়াজের সর্বনিম্ন মূল্য ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে কৃষকরা কিছুটা লাভবান হতে পারবেন।
একইভাবে উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক দুলাল কাজী জানান, তিনি প্রায় ৯ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও দাম কম থাকার কারণে তিনি পেঁয়াজ উত্তোলনে দ্বিধায় ভুগছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর সারিয়াকান্দিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬০০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। গড়ে বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ মণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, এই এলাকার বেলে দোআঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। তবে বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা কাজ করছে। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে বিক্রি করার জন্য। পাশাপাশি সংরক্ষণে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও বিতরণ করা হয়েছে।
এস এম/ ১০ এপ্রিল ২০২৬









