সংবিধান পুরোপুরি বাতিল সম্ভব নয়, পরিবর্তন প্রয়োজন: চিফ হুইপ

ঢাকা, ৬ এপ্রিল – বর্তমান সংবিধান পুরোপুরি বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। তবে সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।
সোমবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস চিফ হুইপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা জানান।
সংসদ ভবনে চিফ হুইপের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি এবং একটি কার্যকর সংসদ গঠনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
চিফ হুইপ জানান, গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সঠিক পথে নিতে হলে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই। বিগত সরকার নিজেদের স্বার্থে সংবিধানের অনেক জায়গায় পরিবর্তন এনেছিল। জনগণের স্বার্থে এই সংবিধানকে পুনরায় জনবান্ধব করতে হবে।
বিদ্যমান সংবিধান পুরোপুরি বাতিল করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই সংবিধানে পরিবর্তন আনা হবে। সরকারের কাছে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে চায় সরকার। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে তার পুরোটাই সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়। তবে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ রয়েছে।
সংসদে বিরোধী দলের গুরুত্ব তুলে ধরে চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি জয়লাভের পর বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গেছেন এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন।
এছাড়া বিরোধী দল থেকে আনুপাতিক হারে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার বিষয়েও সরকারের ইতিবাচক ভাবনা রয়েছে।সংসদকে গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে।
সাক্ষাৎকালে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস বর্তমান সরকারের নেওয়া বেশ কিছু জনবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এনএন/ ৬ এপ্রিল ২০২৬









