হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

তেহরান, ৬ এপ্রিল – হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির জবাবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ আর আগের মতো স্বাভাবিক থাকবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি কঠোর ভাষায় বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইসরায়েল যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করে তবে শুধু হরমুজ প্রণালি নয় বরং বাব আল মান্দেবসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক নৌপথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
একই সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে যে পারস্য উপসাগরে তারা নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তাদের নৌ কমান্ডের মতে হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এই পথ আর সহজ হবে না। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পার্লামেন্টে একটি নতুন খসড়া বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বিলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের জাতীয় মুদ্রায় ট্রানজিট ফি আরোপ করার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা সমর্থনকারী দেশগুলোর জাহাজের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে এই বিলে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি আলটিমেটাম দিয়ে জানিয়েছিলেন যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। তিনি দেশটিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টিরও হুমকি দেন। ট্রাম্পের এই হুমকির কড়া জবাব দিয়ে বেলায়েতি বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো জ্বালানির ভৌগোলিক গুরুত্ব বুঝতে সক্ষম হয়নি।
তিনি আরও মন্তব্য করেন যে বৈশ্বিক জ্বালানি রুটের নিরাপত্তা বর্তমানে প্রতিরোধ শক্তির ওপরই নির্ভর করছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করে বাব আল মান্দেব প্রণালিতে হামলার হুমকি প্রদান করেছে। এই নৌপথটি সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে ইরান ও হুতিদের এই কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে একটি বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। এর ফলে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায়ও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের নৌবাহিনী তাদের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে যা ওই অঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এস এম/ ৬ এপ্রিল ২০২৬









