ইসলাম

সফলতার জন্য দৃঢ় সংকল্প ও প্রস্তুতির গুরুত্ব

ঢাকা, ৬ এপ্রিল – জীবনের যেকোনো বড় কাজে সফলতার জন্য পূর্বপরিকল্পনা ও প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার আগে মহান আল্লাহ প্রজ্ঞাবানদের অন্তর্দৃষ্টি দান করেন এবং তাদের পথ সুগম করেন। তাই যেকোনো কাজে সফল হতে হলে আল্লাহর ওপর ভরসা করার পাশাপাশি নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা প্রয়োজন। পবিত্র কোরআনে হজরত মুসা এর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলেছিলেন যে দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত অথবা দীর্ঘকাল ধরে চলতে না থাকা পর্যন্ত তিনি থামবেন না।

এটি মূলত একটি কঠিন যাত্রার বলিষ্ঠ সূচনা নির্দেশ করে। জ্ঞান অন্বেষণে বছরের পর বছর লেগে গেলেও তিনি অবিচল থাকার প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। যে ব্যক্তি দুর্বলভাবে শুরু করে তার পরিণতিও দুর্বল হয়। পবিত্র কোরআনে এমন ব্যক্তিদের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে যারা সামান্য দান করে মুখ ফিরিয়ে নেয়। জীবনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়ার জন্য কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। প্রথমত নিজের লক্ষ্যের প্রতি সৎ থাকতে হবে। তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছাড়া অন্য কেউ মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারে না।

দ্বিতীয়ত সিদ্ধান্ত নিতে শিখতে হবে এবং স্বস্তিদায়ক গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তৃতীয়ত নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে আপস করা যাবে না। চতুর্থত লক্ষ্য বড় করতে হবে এবং সিদ্ধান্তে অবিচল থাকতে হবে। হোঁচট খেলে পুনরায় উঠে দাঁড়ানোর মানসিকতা থাকতে হবে। মহানবী তাঁর সাহাবিদের বড় স্বপ্ন দেখার তাগিদ দিতেন এবং আল্লাহর কাছে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানটি চাওয়ার কথা বলতেন।

পঞ্চমত সর্বদা আল্লাহর কাছে সফলতা ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রার্থনা করতে হবে। দোয়ার মাধ্যমে কঠিন কাজ সহজ হয়। নিজের সামর্থ্যের ঘাটতি আছে ভেবে প্রত্যাশা ছোট করা উচিত নয়। কোরআনে বলা হয়েছে কিছু মানুষ শুধু দুনিয়ার কল্যাণ চায় পরকালে তাদের কোনো অংশ থাকে না। অন্যদিকে যারা দুনিয়া ও পরকাল উভয়ের কল্যাণ কামনা করে এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি চায় তারাই প্রকৃত সফলকাম। তাই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমেই জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সফল হওয়া সম্ভব।

এস এম/ ৬ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language