সংকটকালে পণ্য মজুত ও কৃত্রিম সংকট তৈরি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

ঢাকা, ৩ এপ্রিল – বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির ও টালমাটাল সময় পার করছে। যুদ্ধ, মহামারি ও ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাধারণ মানুষের মনে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৈশ্বিক এই সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও দৃশ্যমান। তবে এই কঠিন সময়ে একশ্রেণির মানুষের চরম আত্মকেন্দ্রিক ও বিবেকহীন আচরণের প্রকাশ ঘটে। অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের দুর্দিনকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং অস্বাভাবিক মুনাফা লুটে নেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। অন্যদিকে অনেক সাধারণ ক্রেতা পরিবারের জন্য মাত্রাতিরিক্ত নিত্যপণ্য মজুত করে, যার ফলে বাজারে আরও বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। ইসলামি শরিয়তের আলোকে সংকটকালে এমন আচরণ সম্পূর্ণ অনৈতিক।
একজন মুসলিমের প্রধান কর্তব্য হলো বিপদের সময় একে অপরের প্রতি সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের পরিচয় দেওয়া। ইসলামি বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কারও কষ্ট লাঘব করবে, আল্লাহ তার কষ্ট দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্টে ফেলবে, সে আল্লাহর দিক থেকে শাস্তির সম্মুখীন হবে। বিপদের সময়কে পুঁজি করে অন্যকে আরও বিপদে ফেলার চেষ্টা করা মানবিকতা ও নৈতিকতার চরম অবক্ষয়। পার্থিব লোভে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ সাময়িকভাবে লাভবান হলেও চূড়ান্ত বিচারে তা দুঃসহ পরিণতি ডেকে আনে। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মজুতকরণের দুটি দিক রয়েছে।
প্রথমত, বাণিজ্যিক মজুতকরণ বা ইহতিকার। মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য বা খাদ্যসামগ্রী বাজার থেকে কিনে মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও গুনাহর কাজ। তবে উৎপাদন মৌসুমে বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় শুধুমাত্র ব্যবসায়িক প্রয়োজনে পণ্য সংরক্ষণ করা বৈধ। দ্বিতীয়ত, পারিবারিক প্রয়োজনে মজুতকরণ বা ইদ্দিখার। নিজের উৎপাদিত শস্য বা সম্পদ থেকে পরিবারের জন্য সংরক্ষণ করায় কোনো বাধা নেই।
কিন্তু বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে বাজার থেকে মাত্রাতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করে সংরক্ষণ করা বৈধ নয়। এমন পরিস্থিতিতে একজন ইমানদারের উচিত শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহ করা এবং অন্যান্য নাগরিকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করা। অন্যদিকে যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ বা মহামারির মতো জাতীয় দুর্যোগের আশঙ্কা থাকলে রাষ্ট্র জনকল্যাণে প্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করে রাখতে পারে।
হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঐতিহাসিক ঘটনা এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে তিনি দুর্ভিক্ষের পূর্বাভাস পেয়ে পরিকল্পিতভাবে শস্য সংরক্ষণের মাধ্যমে পুরো জাতিকে রক্ষা করেছিলেন। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি বা খাদ্য সংকটের গুজবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অপ্রয়োজনীয় মজুত থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সততার সঙ্গে জীবনযাপন করাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
এস এম/ ৩ এপ্রিল ২০২৬









