ইরানের খারগ দ্বীপ দখলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ: বিশ্লেষকদের সতর্কতা

তেহরান, ২ এপ্রিল – ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রা যোগ করতে পারে। সামরিক বিশ্লেষক হ্যারিসন কাস তার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছেন যে, দ্বীপটি দখল করা যতটা সহজ হবে, তা ধরে রাখা তার চেয়ে বহুগুণ কঠিন হবে। মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপ দিয়ে ইরানের প্রায় ৯৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়।
ফলে এটি তেহরানের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু। যুক্তরাষ্ট্র যদি শেষ পর্যন্ত এই দ্বীপে স্থল সেনা মোতায়েন করে, তবে তা শুধু একটি সাধারণ অভিযান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি হবে ইরানের মূল ভূখণ্ডের খুব কাছে মার্কিন সেনাদের সরাসরি উপস্থিতি, যা যুদ্ধের স্বাভাবিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটিতে বিমান হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করলেও তেলের অবকাঠামোতে কোনো আঘাত হানেনি।
তবে বর্তমান স্থল আক্রমণের আলোচনাকে কেবল কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে, যার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হতে পারে অত্যন্ত তীব্র। সমর্থকদের ধারণা, ইউএসএস ত্রিপোলির মতো শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ এবং মেরিন সেনাদের সহায়তায় খারগ দ্বীপ দখল করা ওয়াশিংটনের জন্য খুব একটা কঠিন হবে না। এতে ইরানের তেল অর্থনীতি ধসে পড়বে এবং তেহরান নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবে বলে তারা মনে করেন। তবে সমরবিদরা বিষয়টিকে একটি ফাঁদ হিসেবে দেখছেন।
কারণ খুব কাছাকাছি হওয়ায় দ্বীপটি সহজেই ইরানি রকেট, ড্রোন এবং কামানের নিশানায় পরিণত হবে। সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হবে। দ্বীপটি একবার নিয়ন্ত্রণে নিলে মার্কিন প্রশাসনকে নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেন্টাগনকে হয়তো যুদ্ধের পরিধি ইরানের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত বাড়াতে হবে। আবার হামলার মুখে সেনা প্রত্যাহার করা হলে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চরম পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে।
এই পরিস্থিতি সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এই পথে অগ্রসর হবেন কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি হয়তো ট্রাম্পের পরিচিত সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ। তবে এই নাটুকে কৌশল যদি সত্যিই বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা শুধু একটি দ্বীপের দখল নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য এক ভয়ংকর ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।
এস এম/ ২ এপ্রিল ২০২৬









