ইউরোপ যাত্রায় সাগরে প্রাণ গেল ফাহিমের, একমাত্র সন্তানের মরদেহও পেলেন না বাবা-মা

সুনামগঞ্জ, ১ এপ্রিল – উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণ মোহাম্মদ আবু ফাহিম। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার কবির নগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন ও হেলেনা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান।
দালালদের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে দিকভ্রান্ত হয়ে টানা ছয় দিন উত্তাল সাগরে নৌকায় ভাসমান অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন বয়সে সবচেয়ে ছোট।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর উদ্দেশ্যে কিছুদিন আগে ফাহিম লিবিয়ায় পাড়ি জমান। কিন্তু মাঝপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে এবং সুপেয় পানি ও খাবারের তীব্র সংকটে ফাহিমের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
জীবনের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন ফাহিম। ফেসবুকের শেষ পোস্টে তিনি লিখেছিলেন “বোকা-সোকা আম্মুটাই দিনশেষে আমার জন্য কাঁদে, মন খারাপ করে, মন ভরে দোয়া করে!”
পোস্টটির সঙ্গে একটি ভিডিওতে মানিব্যাগে রাখা মায়ের ছবি দেখিয়ে তিনি জানান, দেশে থাকতে এক গ্লাস পানিও নিজের হাতে খাননি, অথচ এখন প্রবাসজীবনে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। কথাগুলো যেন তার অজান্তেই হয়ে উঠেছিল বিদায়ের বার্তা।
একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর খবরে তার মা হেলেনা বেগম শোকে পাথর হয়ে গেছেন। ছেলের মরদেহটুকুও তারা ফেরত পাননি। অন্যদিকে, সৌদি আরবে কর্মরত বাবা ফয়েজ উদ্দিন সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি জানান, ইউরোপে গেলেই সব স্বপ্ন পূরণ হবে এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকে তরুণ সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত থাকতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এনএন/ ১ এপ্রিল ২০২৬









