মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে: তুরস্ক

তেহরান, ২৯ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইনে তেহরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। শনিবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত স্ট্র্যাটকম সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ইব্রাহিম কালিন জানান, মহামারির পর থেকে বিশ্ব একটি সংকটময় সন্ধিক্ষণ এবং ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতের সমাপ্তি কীভাবে ঘটবে তা নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলার পরিণতি বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে।
গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে দখল ও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তুরস্কের এই গোয়েন্দা প্রধান বলেন, বর্তমানে বিশ্ব ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার কেন্দ্রে অবস্থান করছে। সংঘাত যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য তুরস্ক নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের শুরু করা এই আঞ্চলিক যুদ্ধ দ্রুত একটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে যার মূল্য বিশ্বের আটশো কোটি মানুষকে দিতে হতে পারে।
এই সংঘাত অঞ্চলে বিভেদ আরও গভীর করতে পারে উল্লেখ করে তিনি যুদ্ধ বন্ধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান। কালিনের মতে, এই যুদ্ধের একটি পরিকল্পিত উদ্দেশ্য শুধু ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নির্মূল করা নয় বরং এই অঞ্চলের তুর্কি, কুর্দি, আরব এবং ফারসি জনগোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। তবে তুরস্ক এ ধরনের বিভেদে কোনো ভূমিকা রাখবে না বলে তিনি জোর দিয়ে জানান। ইস্তাম্বুল কখনোই বিভেদের আগুনে ঘি ঢালার পক্ষে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।
যারা এই যুদ্ধ শুরু করেছে তারা ধ্বংস ও দখলদারিত্বের নীতির মাধ্যমে লেবানন, সিরিয়া এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন বাস্তবতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। তুরস্ক ফিলিস্তিনিদের অধিকার উপেক্ষা করতে দেবে না বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে যুদ্ধ বন্ধে সংলাপ শুরুর প্রচেষ্টাকে ইসরায়েল ক্রমাগত বাধাগ্রস্ত করছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে ইব্রাহিম কালিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এস এম/ ২৯ মার্চ ২০২৬









