সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রথম এলপিজি ট্যাংকার পৌঁছাল বাংলাদেশে

তেহরান, ২৯ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম যুদ্ধকবলিত অঞ্চল থেকে এলপিজি বহনকারী একটি ট্যাংকার বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। ওমান উপসাগর থেকে আসা এমটি বিডব্লিউইকে বোর্নহোম নামের জাহাজটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পণ্য খালাস সম্পন্ন করেছে। শিপিং এজেন্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় এলাকা থেকে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে বাংলাদেশে আসা এটিই প্রথম এলপিজি পরিবাহী জাহাজ। স্মার্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএম এনার্জি লিমিটেড এই এলপিজি আমদানি করেছে।
ওমানের দুকম বন্দর থেকে তিন হাজার আটশ টন এলপিজি নিয়ে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং পথে শ্রীলঙ্কায় আংশিক পণ্য খালাস করে বাকি অংশ সীতাকুণ্ডে নামিয়ে দেয়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি জানায় যে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলেও আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই চালানটি দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরানে হামলা এবং পরবর্তীতে তেহরানের পাল্টা জবাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ইন্টারন্যাশনাল বার্গেনিং ফোরাম পুরো এলাকাকে যুদ্ধাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এর ফলে বিমা কোম্পানিগুলো যুদ্ধ প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং পণ্য পরিবহনের খরচ আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বড় জ্বালানি ট্যাংকার পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। এর মধ্যে এমটি লিব্রেথা বাষট্টি হাজার টন এলএনজি নিয়ে কাতারের উপকূলে এবং এমটি নরডিক পলুকস এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজ দুটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। আটকে থাকা এই জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানের সঙ্গে বাংলাদেশ কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে।
ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। ইরান ইতিবাচক সাড়া দিলেও কারিগরি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় জাহাজ দুটি এখনো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে অপরিশোধিত তেলের আশি শতাংশ এবং এলএনজির পঁয়ষট্টি শতাংশই এই অঞ্চল থেকে এসেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এস এম/ ২৯ মার্চ ২০২৬









