ত্রিমুখী হামলায় চরম চাপের মুখে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

তেল আবিব, ২৯ মার্চ – ইরান এবং তার মিত্রদের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েল এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহর পর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংঘাতে যুক্ত হওয়ায় ইসরায়েল এখন ত্রিমুখী হুমকির সম্মুখীন। বহুমুখী হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে পড়েছে এবং তাদের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনক হারে কমে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করছেন তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন এবং ইরান কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তবে ইসরায়েলি বিরোধী দলগুলো এর তীব্র সমালোচনা করছে। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর কাছে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েলকে তাদের অত্যাধুনিক ‘অ্যারো’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে। একেকটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে কয়েক লাখ ডলার খরচ হয়। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকরা এই ব্যাপক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। তারা এখন বেছে বেছে কেবল সেই সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করছে, যেগুলো সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা জনবহুল এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। ফাঁকা স্থানে পড়তে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস না করে ইন্টারসেপ্টর বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসরায়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরায়েলে মোতায়েনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুগপৎ চাহিদা মেটানো তাদের নিজস্ব মজুতের ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি করছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অত্যধিক চাপ এবং ইন্টারসেপ্টরের স্বল্পতার কারণে সম্প্রতি বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনএন/ ২৯ মার্চ ২০২৬









