লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ, ২৮ মার্চ – লিবিয়া থেকে নৌপথে গ্রিস যাওয়ার সময় সাগরে ভাসমান অবস্থায় খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবে সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার ২৮ মার্চ সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা জানা যায়। ভিডিওতে ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরা এক যুবক জানান যে তারা মোট ৪৩ জন গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। তাদের বড় বোটে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও একটি ছোট হাওয়াই বোটে তুলে দেওয়া হয়। ওই বোটে পাঁচজন সুদানি নাগরিক এবং ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
এর মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে। মারা যাওয়া যুবকদের মরদেহ দুদিন বোটে রাখার পর পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সেগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না, মো. সাহান এহিয়া, মো. সাজিদুর রহমান, রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান এবং করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. তারেক মিয়া।
নিহত সাহান এহিয়ার বড় ভাই জাকারিয়া জানান যে বারো লাখ টাকার চুক্তিতে গত মাসে তার ভাই বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। প্রথমে ঢাকা থেকে বিমানে সৌদি আরব এবং পরে মিশর হয়ে তাদের লিবিয়ায় নেওয়া হয়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। এরপর বেশ কয়েক দিন তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে শনিবার বিকেলে গ্রিস থেকে তার এক চাচাতো ভাই চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন যে সন্ধ্যার পর বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তারা বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি তবে তারা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন এবং তিনি জানান যে এই মৃত্যুর খবরের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
এনএন/ ২৮ মার্চ ২০২৬









