আমিরাত থেকে স্থল হামলার আশঙ্কা, পাল্টা আক্রমণের কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

সংযুক্ত আরব আমিরাত, ২৮ মার্চ – তেহরান মনে করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। ইরানের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন যে ইরানে কোনো স্থল হামলা চালানো হলে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক মাত্রায় পাল্টা হামলা করা হবে। গত এক মাস যাবত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে প্রতিহত করতে এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছেন। চলমান এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের খারগ দ্বীপ যেখান থেকে দেশটির প্রায় নব্বই শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপটিও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে ইরানবিরোধী অবস্থান ক্রমশ জোরালো হচ্ছে কারণ এসব দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে যে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্তমান সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে যুদ্ধের শুরু থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে তেহরানের নেতারা বিশ্বাস করেন।
আবুধাবির এসব কার্যকলাপের বিষয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ধৈর্য ধারণ করার পর ইরান এখন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে আমিরাত তাদের কিছু বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় আমিরাত একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন। ইরানের আরেক শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিক মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন যে তেহরান আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মুহূর্তে স্থল হামলা শুরু করতে পারে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা ধারণা করছেন যে এই হামলা সম্ভবত সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ড থেকে শুরু হতে পারে।
গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হবে। যদিও তিনি হামলার সময়সীমা পিছিয়ে দিয়েছেন কিন্তু ইরান এটিকে কোনো কূটনৈতিক বিরতি হিসেবে মানতে নারাজ। তেহরানের ধারণা যুক্তরাষ্ট্র এই সময়ের মধ্যে নতুন সেনা মোতায়েন এবং যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যেখানে আগে থেকেই তাদের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ইরানের ওই কূটনীতিক সতর্ক করে বলেছেন যদি কোনো স্থল হামলা হয় অথবা ইরানের কোনো দ্বীপ বা ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করা হয় তবে ইরান চরম প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
যে দেশ থেকেই এমন হামলা পরিচালিত হবে তাকে সরাসরি শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো দেশ ইরানের একখণ্ড জমি দখলের অভিযানে অংশ নিলেও তাকে আগ্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এই কঠোর বার্তাটি ইতিমধ্যে আমিরাতের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এ এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬









