যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, পরিচয় প্রকাশ করল ডিএইচএস

ওয়াশিংটন, ২৮ মার্চ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, মাদক পাচার, প্রতারণা, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, সশস্ত্র ডাকাতি, ছিনতাই এবং হামলার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ডিএইচএসের আওতাধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই গত এক বছরে প্রায় চার লাখ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে ৫৬ হাজার জনই দণ্ডপ্রাপ্ত গুরুতর অপরাধী বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে থাকা এই ১০ বাংলাদেশিকে খারাপের চেয়েও খারাপ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
ডিএইচএসের উপসহকারী মন্ত্রী লরেন বিস এক বিবৃতিতে জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সাম্প্রতিক অভিযানে গুরুতর অপরাধে জড়িত হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছেন। এসব অপরাধী শিশুদের ওপর হামলা চালায় বা নিরীহ মানুষের ক্ষতি করে থাকে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয় কারণ তারা সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি। গ্রেপ্তার হওয়া ১০ বাংলাদেশির মধ্যে কাজী আবু সাঈদ ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট স্কট এলাকা থেকে ধরা পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের খারাপ কাজে ব্যবহার, অবৈধ জুয়া পরিচালনা এবং জুয়া সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
অপর বাংলাদেশি শাহেদ হাসানকে নর্থ ক্যারোলিনার র্যালি শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গোপনে অস্ত্র বহন এবং দোকান থেকে চুরির অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহর থেকে। তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন এবং যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমডি হোসেনকে, যার বিরুদ্ধেও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। মাহতাবউদ্দিন আহমেদকে ভার্জিনিয়ার চ্যান্টিলি শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে গাঁজা এবং হ্যালুসিনোজেন জাতীয় মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মার্লিন শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নেওয়াজ খানকে। তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনক মাদক সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। চুরির অভিযোগে শাহরিয়ার আবিরকে ফ্লোরিডার প্যানস্কলা থেকে এবং ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগে আলমগীর চৌধুরীকে মিশিগানের মাউন্ট ক্লেমেন্স থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভার্জিনিয়ার মানাসাস শহর থেকে ইশতিয়াক রাফিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধ এবং সিন্থেটিক মাদক রাখার দায়ে। এছাড়া প্রতারণার অভিযোগে অ্যারিজোনার ফিনিক্স শহর থেকে কনক পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬









