টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তীব্র জ্বালানি সংকট, সেচ ও যান চলাচল ব্যাহত

টাঙ্গাইল, ২৮ মার্চ – টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানির অভাবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল এবং ডিজেলচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এর ফলে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে সেচ পাম্প চালাতে না পারায় বোরো ধানের আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শনিবার মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন চালকরা।

দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত তেল পাচ্ছেন না। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। নাটোরের আরিফ হোসেন ও বগুড়ার ফিরোজ মিয়া জানান, তারা গাজীপুর এবং ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মোটরসাইকেলে থাকা সামান্য তেল দিয়ে মির্জাপুর পর্যন্ত পৌঁছানোর পর সোহাগপাড়া এলাকায় এসে তাদের তেল শেষ হয়ে যায়। স্থানীয় যুঁইযুঁথি ফিলিং স্টেশনে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তারা তেল পাননি। শত শত বাইক চালক একই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।

তেলের অভাবে চরম কষ্টে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিক ও কৃষকরা। ট্রাকচালক আব্দুল মিয়া জানান, ডিজেল না পাওয়ায় গত ছয় সাত দিন ধরে তিনি ট্রাক চালাতে পারছেন না। এতে পরিবার নিয়ে তাকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। ওয়ার্শি এলাকার কৃষক শামসুল আলম খান জানান, ডিজেলের অভাবে গত পনেরো কুড়ি দিন ধরে সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে জমির বোরো ধানের চারা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল বাইপাস, করটিয়া, মির্জাপুর, দেওহাটা, কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা এলাকাসহ মহাসড়কের দুই পাশের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। কিছু স্টেশনে অল্প পরিমাণ তেল থাকলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তা সংগ্রহ করতে না পারায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক আজিজ জানান, পাম্পগুলোতে কেউ যেন তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

এস এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language