জাতীয়

জ্বালানি সরবরাহে বিপিসির নতুন সময়সূচি, পাম্পে তথ্য প্রদর্শনের কড়া নির্দেশ

ঢাকা, ২৮ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব থেকে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে নতুন সময়সূচি ও কড়া নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, এখন থেকে বিপিসির অধীনস্থ সকল প্রধান স্থাপনা ও ডিপো থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত জ্বালানি পণ্য ছাড় করা হবে। দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্দেশনায় সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের সকল ফিলিং স্টেশন, প্যাকড পয়েন্ট ডিলার ও পাম্পগুলোকে গ্রাহকদের জন্য দৃশ্যমান স্থানে একটি ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ড স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে অন্তত চার ধরনের তথ্য প্রদর্শন করতে হবে। এই তথ্যের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি পণ্যের নাম, গত বছরের মার্চ মাসের প্রাপ্তির দৈনিক গড়, চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রাপ্তির দৈনিক গড় এবং সেদিন কত পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া গেছে তার বিবরণ। অর্থাৎ বর্তমান সরবরাহের সাথে অতীতের তুলনামূলক চিত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ২৮ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে বিপণন কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলার অংশ হিসেবে সরকার সারা দেশে তদারকি কার্যক্রমও জোরদার করেছে। বিভিন্ন জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন এবং ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, জ্বালানি পরিস্থিতি নজরদারির জন্য একদিনে দেশের ৬২টি জেলায় ২৯৩টি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭৮টি মামলা দায়ের করে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। উদাহরণস্বরূপ, জামালপুর সদর উপজেলার পিটিআই মোড়ে অবস্থিত মেসার্স জুঁই এন্টারপ্রাইজ নামের একটি পাম্পে পেট্রোল নেই বলে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বি এম এস আর আলিফ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল মাহমুদ সেখানে পরিদর্শন করে ১২টি ড্রামে প্রায় ২ হাজার ৮০০ লিটার পেট্রোল মজুত পান। কৃত্রিম সংকট তৈরির দায়ে পাম্পটির ব্যবস্থাপককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একইভাবে শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনে প্রায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখায় পাম্প মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিপিসির এই নতুন নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো সরবরাহ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

এনএন/ ২৮ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language