দক্ষিণ এশিয়া

নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব শেষে অবসরে সুশিলা কার্কি

কাঠমুন্ডু, ২৭ মার্চ – নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কি অবসর ভেঙে দেশের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব নেওয়ার পর এবার তা সম্পন্ন করে আবারও অবসরে ফিরে গেলেন। দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের জেরে সরকার পতনের পর তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ৭৩ বছর বয়সী কার্কি এই চরম সংকটময় মুহূর্তে দেশের হাল ধরে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। ২০০৬ সালে নেপালে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এটি ছিল দেশটির অন্যতম অস্থির এক সময়। বিদায়ী ভাষণে তিনি জানান যে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি ভয় এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। তবে তিনি বিশ্বাস করতেন যে সংকটের এই সময়ে তিনি অন্তত মানুষের মনে আশা জাগাতে পারবেন।

কার্কি এমন এক সময়ে দেশের নেতৃত্ব দেন যখন নেপাল সামাজিকভাবে গভীরভাবে বিভক্ত ছিল। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যখন দায়িত্ব নেন তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছিল প্রায় ধ্বংসস্তূপ। সহিংসতায় সংসদসহ বহু সরকারি ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭৭ জন মানুষ। কার্কি বারবার স্পষ্ট করেছেন যে তিনি কখনোই এই ক্ষমতা চাননি। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভের কর্মীরা অনলাইন মাধ্যম ডিসকর্ডের সাহায্যে তার নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানান যে তরুণ প্রজন্মের অনুরোধে শুধুমাত্র নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এখন কিছুটা সন্তুষ্টি এবং অনেক আশা নিয়ে তিনি বিদায় নিচ্ছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তার অন্যতম প্রধান কাজ ছিল সহিংসতার তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা। এই কমিশন তার পূর্বসূরি এবং চারবারের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিকে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া ৩৫ বছর বয়সী র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ ভোট দেওয়ার পর কার্কির একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন যে তার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।

১৯৫২ সালে পূর্ব নেপালের শিল্পশহর বিরাটনগরে জন্মগ্রহণ করেন সুশিলা কার্কি। ভারতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং কাঠমান্ডুতে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৭৯ সালে তিনি আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। সেই সময়ে নারীদের আইন পেশায় আসা বেশ বিরল ঘটনা ছিল। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একজন নির্ভীক আইনজীবী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন এবং এমন সব মামলা পরিচালনা করেন যা অন্য আইনজীবীরা এড়িয়ে যেতেন।

এস এম/ ২৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language