কলার মোচা উঁচিয়ে ট্রেন থামালেন দিনমজুর, বেঁচে গেল শত শত প্রাণ

দিনাজপুর, ২৪ মার্চ – মানবিক অনুভূতি ও উপস্থিত বুদ্ধির এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৬৫ বছর বয়সী দিনমজুর এনামুল হক। সোমবার সকালে কাজের সন্ধানে বের হয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় তিনি দেখতে পান লাইনের প্রায় এক ফুট অংশ ভাঙা। সাথে সাথে তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে রেলওয়ে স্টেশনে খবর দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। হাতের কাছে লাল রঙের কোনো কাপড় না পেয়ে তাৎক্ষণিক বুদ্ধিতে কলাগাছ থেকে কলার মোচা ছিঁড়ে নেন তিনি। এরপর লাঠির মাথায় কলার মোচার লাল অংশটি বেঁধে রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে যান। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আন্তনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি সেখানে চলে আসে।
দূর থেকে এনামুল হকের হাতে থাকা ওই লাল সংকেত দেখতে পেয়ে চালক নিরাপদ দূরত্বেই ট্রেনটি থামিয়ে দেন। তার এই সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপে নিশ্চিত এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে যান কয়েকশ ট্রেনযাত্রী। ঈদের তৃতীয় দিন সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এনামুল হকের নির্দেশে স্থানীয় যুবক শাহিনুর দ্রুত পার্বতীপুর রেলওয়ে অফিসে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে আধা ঘণ্টা পর রেলওয়ের প্রকৌশলী দল ও শ্রমিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাঠ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ নেন। পরে লাইন পুরোপুরি মেরামত করা হলে ওই পথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ফুলবাড়ী স্টেশন মাস্টার শওকত আলী জানান যে সকাল সাড়ে ৬টায় তারা ৩৫২ নম্বর পিলারের ৫ ও ৬ নম্বর অংশের মাঝামাঝি রেললাইন ভেঙে যাওয়ার খবর পান। খবর পেয়ে দ্রুত প্রকৌশলী দল পাঠিয়ে লাইন মেরামত করা হয়। ওই সময় প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে স্থানীয় এই দিনমজুরের চরম সচেতনতায় একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এদিকে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে ঘটনার পরপরই এনামুল হক কাজের সন্ধানে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
এস এম/ ২৪ মার্চ ২০২৬









