ইউরোপ

ইরানের ওপর হামলায় ব্রিটেনের কোনো যোগ নেই, স্পষ্ট করলেন স্টারমার

তেহরান, ২৪ মার্চ – ইরানের ওপর চালানো সাম্প্রতিক হামলায় ব্রিটেনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলোতে হামলার উদ্দেশ্যে মার্কিন বাহিনী কয়েকটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করছে। স্টারমারের দাবি, এই ঘাঁটিগুলো কেবল আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের ভুল থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছেন। সে কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে ব্রিটেন সরাসরি অংশ নিচ্ছে না।

উল্লেখ্য, দুই দশক আগে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনীর যৌথ অভিযান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল, যা ২০০৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ব্রিটেন কেবল আত্মরক্ষামূলক কৌশল বজায় রাখবে বলে জানান স্টারমার। তিনি উল্লেখ করেন, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো সম্পূর্ণ আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেগুলো ইরানের বেশ কিছু হামলা প্রতিহত করতে সফল হয়েছে। তার মতে, ইরানের দিক থেকে হামলার ঝুঁকি কমানোর একমাত্র উপায় হলো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা।

সম্প্রতি আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পুরো পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও বিভিন্ন মার্কিন ও ব্রিটিশ ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় স্টারমার জানান, ইরান এমন সব দেশের ওপরও হামলা চালাচ্ছে যারা তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় দুই লাখ ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে আখ্যায়িত করেন। বাহরাইনে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এই অঞ্চলে থাকা ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীও বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, সামরিক সংঘাত বা উত্তেজনার চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করাই মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র বিশ্বের জন্য মঙ্গলজনক। তাই ব্রিটেন ইচ্ছাকৃতভাবেই এই সংঘাতে সরাসরি জড়ানো থেকে বিরত রয়েছে।

এস এম/ ২৪ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language