কলম্বিয়ায় সামরিক কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, সেনা সদস্যসহ নিহত ৬৬

বোগোতা, ২৪ মার্চ – কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ৬৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পুতোমায়ো বিভাগের পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরের কাছাকাছি এলাকায় ভোরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
সামরিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন সেনা সদস্য, ছয়জন বিমান বাহিনীর সদস্য এবং দুজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।
লেগুইজামো শহরের মেয়র লুইস এমিলিও বুস্টোস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক একটি ঘটনা। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে এ পর্যন্ত ৬৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দুর্ঘটনার সময় ওই উড়োজাহাজে সেনা সদস্য এবং ক্রু মিলিয়ে মোট ১২৫ জন যাত্রী ছিলেন।
জানা যায় উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। ইকুয়েডর এবং পেরুর সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে উড্ডয়নের পরপরই উড়োজাহাজটি জঙ্গলের ভেতর আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই সেটিতে আগুন ধরে যায়।
এর আগে স্থানীয় সরকার সচিব আরসিএন টেলিভিশনকে জানিয়েছিলেন অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। যে সীমান্ত এলাকায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক সামরিক তৎপরতা চলছিল। কলম্বিয়া এবং ইকুয়েডরের সেনাবাহিনী যৌথভাবে মাদক চোরাচালানকারী চক্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন এখনই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়। তিনি এটিকে দেশের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরও জানান উড়োজাহাজটি কোনো ধরনের হামলার শিকার হয়নি এবং এর চালকরা যথেষ্ট দক্ষ ও অভিজ্ঞ ছিলেন।
সামরিক কর্মকর্তা কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা রুয়েদা জানান উড়োজাহাজটিতে ১১৪ জন সেনা সদস্য এবং ১১ জন ক্রু ছিলেন। তারা পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে কাছাকাছি একটি আমাজন ঘাঁটির দিকে যাচ্ছিলেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই ঘটনাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দেশের সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তবে সরাসরি এই দুর্ঘটনার সঙ্গে উড়োজাহাজটির বর্তমান অবস্থার কোনো সম্পর্ক টানেননি।
চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ সামরিক উড়োজাহাজটি মার্কিন সমরাস্ত্র ও যুদ্ধযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের তৈরি। অস্থায়ী রানওয়ে থেকেও উড্ডয়ন এবং অবতরণের সক্ষমতা থাকায় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
এনএন/ ২৪ মার্চ ২০২৬









