ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের চার বিকল্প: বের হওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র

তেহরান, ২৩ মার্চ – ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এই সংঘাতের জেরে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এখন চরম অস্থিতিশীলতার মুখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা। একদিকে তিনি যুদ্ধ গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চরমপত্র দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার মতো ইরানের আকস্মিক পদক্ষেপ আগে থেকে বুঝতে না পারায় মার্কিন রণকৌশল এখন অনেকটাই দিশেহারা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে চারটি বিকল্প খোলা রয়েছে, তবে প্রতিটি পথই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথম বিকল্পটি হলো আলোচনার টেবিলে বসা।
যদিও যুদ্ধবিরতির ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বাস্তবতা বেশ কঠিন। পরপর দুইবার আক্রান্ত হওয়ার কারণে ইরান এখন চরম আস্থাহীনতায় ভুগছে। পাশাপাশি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রকাশ্যে না আসায় দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও জল্পনা রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরব দেশগুলোর মধ্যেও মতপার্থক্য প্রবল। দ্বিতীয় বিকল্প হতে পারে বিজয় ঘোষণা করে সামরিক অবস্থান প্রত্যাহার করা। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ধ্বংসের দাবি তুলে যুদ্ধ শেষ করতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে। কিন্তু এতে ইরান খুব সহজেই তাদের মজুদকৃত ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ পেয়ে যেতে পারে এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে তা হবে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিশাল পরাজয়।
তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কট্টরপন্থিরা চান বর্তমান অবস্থা বজায় রেখে আরও কয়েক সপ্তাহ বিমান হামলা চালিয়ে ইরানকে সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দিতে। তাদের আশা, এর মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটতে পারে। তবে এতেও নিশ্চয়তা নেই, কারণ ইরান যেকোনো সময় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। সবশেষ বিকল্পটি হলো যুদ্ধের ভয়াবহ বিস্তার ঘটানো। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একে শান্তির জন্য যুদ্ধ বাড়ানো হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্প যদি সত্যি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেন বা খার্গ দ্বীপ দখলে মেরিন সেনা পাঠান, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান যদি উপসাগরীয় দেশগুলোর পানি বা গ্যাস স্থাপনায় আঘাত হানে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক বড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। এরই মধ্যে কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্রে হামলার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক জটিল ভূরাজনৈতিক সমীকরণে আটকে পড়েছে, যেখান থেকে সম্মানজনক প্রস্থান অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল।
এস এম/ ২৩ মার্চ ২০২৬









