হরমুজ প্রণালী পার হতে জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার ফি নিচ্ছে ইরান

তেহরান, ২৩ মার্চ – আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পণ্যবাহী জাহাজগুলো থেকে বিপুল অংকের অর্থ আদায় করছে ইরান। দেশটির এক সংসদ সদস্যের দাবি অনুযায়ী প্রতিটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হতে ২০ লাখ ডলার করে ফি দিতে হচ্ছে। এই অর্থ পরিশোধ না করলে কোনো জাহাজকে এই প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি ইরানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান আলায়েদ্দিন বরৌজের্দি। ২০২৪ সাল থেকে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে এই বিপুল পরিমাণ ফি সব পণ্যবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু জাহাজের কাছ থেকে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আলায়েদ্দিন বরৌজের্দি জানান জাহাজ থেকে অর্থ আদায়ের এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলে ইরানের শক্তি এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ বহন করে। তিনি উল্লেখ করেন যুদ্ধের একটি নির্দিষ্ট ব্যয় রয়েছে এবং সেই ব্যয় মেটাতেই হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে এই ফি আদায় করা হচ্ছে। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল তার এই মন্তব্যের বিষয়টি সামনে এনেছে। বর্তমানে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর একাধিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এর ফলে জাহাজ পরিবহণের জন্য ইরানকে অর্থ প্রদান করলে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বিপদে পড়তে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো পক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর হামলার পর থেকেই ইরান প্রত্যাঘাত শুরু করে। ইসরায়েল ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক তৃতীয়াংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাধা সৃষ্টির কারণে এর পশ্চিম প্রান্তে অনেক জাহাজ আটকে রয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন শত্রু দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের বাধা নেই।
এস এম/ ২৩ মার্চ ২০২৬









