সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নদীর বাঁধ কাটা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ২০

সুনামগঞ্জ, ২১ মার্চ – সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বৃহত্তর পাগনার হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কানাইখালী নদীর বাঁধ কাটা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার দুপুরে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের শান্তিপুর এবং জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান কানাইখালী নদী দিয়ে ফেনারবাঁক ভীমখালী ও জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের বোরো জমির পানি নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু শান্তিপুর গ্রামের পশ্চিম দিকে এবং পাঠামারা খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখা হয়েছে। হটামারা ও শান্তিপুর গ্রামবাসীর দাবি বাঁধ না দিলে উজানের পানিতে তাদের হাওরের নিচু জমি তলিয়ে যাবে। অন্যদিকে বাঁধের কারণে উজানের শত শত একর বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ পানি নিষ্কাশনে বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন গ্রামের ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার কাশীপুর গ্রামের কৃষকরা নিজেরাই বাঁধ কাটতে গেলে শান্তিপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। সংঘর্ষে শান্তিপুর গ্রামের মাসুদ মিয়া আবু হানিফ মো. রাফাত মো. সামিরুল ইসলাম আবু সালেক নুর মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে কাশীপুর পক্ষের জসিম উদ্দিন আবুল হোসেন আবু কালাম তায়েফনগর গ্রামের সুজন মিয়াসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সানোয়ার হোসেন জানান হটামারা গ্রামের লোকজন পাঠামারা খালে বাঁধ দেওয়ায় তাদের হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে। তাই নিজেদের জমি রক্ষায় তারাও নদীতে বাঁধ দিয়েছেন।

অন্যদিকে হটামারা গ্রামের আব্দুল হেকিম জানান উজানের সব পানি তাদের হাওরে ঢুকে এরই মধ্যে শতাধিক বিঘা জমি তলিয়ে গেছে। তাই পানি আটকাতেই এই বাঁধ দেওয়া হয়েছে।

জামালগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুব্রত দাস জানান কানাইখালী নদীর বাঁধ কাটা নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ফেনারবাঁক ও ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা সমাধানের চেষ্টা করলেও হটামারা গ্রামবাসী বাঁধ কাটতে রাজি হয়নি বলে জানান ভীমখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকুন নুর জানান প্রকৃতিগতভাবে উজানের পানি নদী দিয়ে নিষ্কাশিত হবে এবং এটি আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দুটি বাঁধ অপসারণে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনএন/ ২১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language