ইউরোপ

নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক শান্তির জন্য ভয়াবহ হুমকি: এরদোয়ান

ইস্তাম্বুল, ২১ মার্চ – ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে সরাসরি সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপগুলো আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক শান্তির জন্য এক ভয়াবহ হুমকি তৈরি করেছে। শুক্রবার ইস্তাম্বুলে দেওয়া এক ভাষণে এরদোয়ান অভিযোগ করেন যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নেতানিয়াহুর উসকানিতে শুরু হওয়া ইরান কেন্দ্রিক হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও গভীর করেছে।

ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন একটি জায়নবাদী গণহত্যা নেটওয়ার্ক গাজায় ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংসের মাধ্যমে দস্যুপনা চালাচ্ছে। তিনি এই কঠিন সময়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এরদোয়ান ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে ইরান যুদ্ধের দোহাই দিয়ে ইসরায়েল মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল আকসা মসজিদে ইবাদত বন্ধ করে দিয়েছে।

এর পাশাপাশি পশ্চিম তীরসহ অন্যান্য অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল তাদের অবৈধ বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণবাদী নীতি আরও জোরদার করেছে। লেবানন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এরদোয়ান জানান গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় সেখানে এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দশ লাখেরও বেশি মানুষ। তিনি অভিযোগ করেন রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতসহ বিশ্বজুড়ে চলমান নানা সংকটের সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শোক ও কষ্টের মধ্যে থাকা মুসলিম উম্মাহ বিশেষ করে গাজাবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। এরদোয়ান বিশ্বাস করেন ধৈর্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব খুব শিগগিরই এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন ইসলামি বিশ্ব বর্তমানে এক সংকটময় পথ অতিক্রম করছে যা নানা ষড়যন্ত্র ও ফাঁদে পরিপূর্ণ। তুরস্ক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং কূটনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। অন্যান্য আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়ে এরদোয়ান জানান তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ঈদ উপলক্ষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

তিনি এই সাময়িক শান্তি যেন স্থায়ী রূপ নেয় সেই আশা প্রকাশ করেন। দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে রক্তক্ষয় বন্ধ হওয়া এবং শান্তিতে ঈদ পালনের বিষয়টিকে তিনি স্বাগত জানান। তুরস্কের এই কূটনৈতিক সাফল্য পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ এম/ ২১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language