পর্যটন

ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামার অপেক্ষায় কক্সবাজার

কক্সবাজার, ১৯ মার্চ – প্রায় দেড় মাসের খরা কাটিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে কক্সবাজারে বিপুল পর্যটকের সমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পবিত্র রমজান মাসে হোটেল ও মোটেলগুলোতে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হলেও পর্যটকদের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ঈদ উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

সৈকতের ফটোগ্রাফার, বিচ বাইক চালক, হকার এবং শামুক, ঝিনুক ও বার্মিজ পণ্যের দোকানিরা নতুন করে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাজিয়েছেন। ফটোগ্রাফার করিম আলী এবং কিটকট ব্যবসায়ী আবদুর রহমান জানান, রমজানে তাদের ব্যবসা খুব একটা ভালো হয়নি। তবে ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। আচার বিক্রেতা জিয়াউল হক জানান, পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন ধরনের বার্মিজ আচার, চকলেট এবং থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে নানা পণ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে লাবণী শুঁটকি বিতানের স্বত্বাধিকারী শামশেদ আলম ঈদ উপলক্ষে হরেক রকমের শুঁটকি দিয়ে তার দোকান সাজিয়েছেন।

পর্যটকদের বরণ করে নিতে কক্সবাজারের প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট পুরোপুরি প্রস্তুত। কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন হোটেলে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। লেইজার হোটেলিয়ার্স অব বাংলাদেশ কক্সবাজার জোনের সভাপতি আবু তালেব শাহ বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এখন বেশ ভালো। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। কক্সবাজার পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি ও গোয়েন্দা দল মাঠে কাজ করছে। এছাড়া সমুদ্রে পর্যটকদের নিরাপদ স্নান নিশ্চিত করতে সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার কর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সমুদ্র উত্তাল থাকায় পর্যটকদের শুধুমাত্র লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে নির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে পানিতে নামার আহ্বান জানিয়েছেন লাইফগার্ড কর্মী জহিরুল ইসলাম।

এস এম/ ১৯ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language