সৌদি আরবসহ চার দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, উপসাগরীয় অঞ্চলে আতঙ্ক

তেহরান, ১৯ মার্চ – ইরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশগুলোর বিভিন্ন স্থানে সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। এতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া ইরানের চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলো ধ্বংস করা হলেও এর ধ্বংসাবশেষ শহরের বিভিন্ন স্থানে পড়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
একই সময়ে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের একটি গ্যাস স্থাপনার দিকে ধেয়ে আসা একটি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ড্রোনটি তার লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে রাস লাফান এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ইরানের হামলার পরপরই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দ্রুতই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে গত চব্বিশ ঘণ্টায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতেরোটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে এ ধরনের মোট ঘটনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারশ একুশে। এই সময়ের মধ্যে অন্তত চুরানব্বই বার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছে।
বাহরাইনেও একাধিকবার সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনার আশপাশের এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। তারা এসব স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
বুধবার ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি এমন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
কাতার এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি।
এনএন/ ১৯ মার্চ ২০২৬









