ফটিকছড়িতে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইতিকাফের আসর, অংশ নিয়েছেন ২৭০০ মুসল্লি

চট্টগ্রাম, ১৮ মার্চ – পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশককে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুরে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইতিকাফের আসর বসেছে। উপজেলার নানুপুর জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া মাদ্রাসা মসজিদে এবার প্রায় দুই হাজার ৭০০ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন। মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মসজিদের তিনতলা জুড়ে ইতিকাফকারীরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন। জাগতিক ও পারিবারিক নানা ব্যস্ততা থেকে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা দিনরাত নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকিরসহ নানা ইবাদতে সময় পার করছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ইতিকাফের আয়োজন।
ইতিকাফকারীদের সার্বিক সেবায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবক দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা ইতিকাফে বসা মুসল্লিদের দৈনন্দিন নানা প্রয়োজন মেটাতে সহযোগিতা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকরা মুসল্লিদের কাপড় ধোয়াসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত কাজেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহায়তা করছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইতিকাফকারীদের জন্য বিনামূল্যে সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে মুসল্লিদের মাঝে খাবার পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি ইতিকাফ চলাকালে মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ধর্মীয় দিকনির্দেশনারও আয়োজন রয়েছে। সহিহ কোরআন তেলাওয়াত, নামাজের সঠিক বিধান, ইসলামী আদর্শ ও জিকিরের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর ফলে মুসল্লিরা ইবাদতের পাশাপাশি ইসলামী জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা জানান, বিজ্ঞ আলেমদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক পরিবেশে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তারা ইতিকাফ পালন করছেন। প্রয়োজনীয় সব সুযোগ সুবিধা থাকায় প্রতি বছরই এখানে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী জানান, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা এখানে ছুটে আসেন। তিনি বলেন, ইতিকাফকারীদের নির্বিঘ্নে ইবাদত করার সুযোগ করে দেওয়া এবং তাদের সেবা করতে পারা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। প্রতিদিন আসর নামাজের পর ইতিকাফকারীদের উদ্দেশ্যে ঈমান ও আমল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান প্রদান করা হয় বলেও জানান তিনি। প্রতি বছর রমজানের এই সময়ে নানুপুরে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়, যা সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে।
এস এম/ ১৮ মার্চ ২০২৬









