কিশোরগঞ্জ

কটিয়াদীতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ পৌরবাসী, মশা নিধন কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ, ১৭ মার্চ – কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় মশার উপদ্রবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিয়মিত কর প্রদান করেও ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। পৌর শহরের পশ্চিমপাড়া, বণিকপাড়া, ভোগপাড়া ও পূর্বপাড়াসহ বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দাদের বর্তমানে প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মশা।

দিনে ও রাতে বাধ্য হয়ে মশারি টানিয়ে রাখতে হচ্ছে। মশার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। অনেকেই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সরকারিভাবে মশা নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে সুফল মিলছে না। কাগজে কলমে কাজ দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্বচ্ছ তদারকির অভাবেই মশা নিধন কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়কে বাতি নেই। সন্ধ্যার পর সেখানে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো থাকায় এবং বাজারের বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনা জমে থাকায় মশার বিস্তার আরও বাড়ছে। মশা নিধনে বরাদ্দের পরিমাণ ও ব্যয়ের হিসাব নিয়েও নাগরিকদের মাঝে ধোঁয়াশা রয়েছে।

গত ১ মার্চ পৌরসভা থেকে মশা নিধন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলেও তা সেখানেই আটকে আছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবছর বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা মাঠে দৃশ্যমান নয়। চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ আসার পরও অদৃশ্য কারণে কাজ শুরু হয়নি। চরিয়াকোনা এলাকার বাসিন্দা কাশেস মিয়া ও পশ্চিমপাড়ার মোস্তাকুর রহমান গোলাপ জানান, তারা নিয়মিত কর দিলেও নাগরিক সেবা পান না।

অন্যদিকে, এক সাবেক কাউন্সিলরের সহকারী জানান, ফগার মেশিনে ওষুধের চেয়ে পানি বেশি মিশিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। কটিয়াদী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মহিউদ্দিন বরাদ্দের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং কার্যক্রম শুরু হতে আরও এক মাস সময় লাগবে বলে জানান।

তবে কটিয়াদী পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার লাবনী আক্তার তারানা বলেন, মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় বাজেট থেকে সামান্য অর্থ নিয়ে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং বাজেটের বিষয়ে কোনো লুকোচুরি করা হবে না।

এ এম/ ১৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language