সংযুক্ত আরব আমিরাতে পুনরায় বিমান চলাচল শুরু, আকাশসীমা স্বাভাবিক

রিয়াদ, ১৭ মার্চ – মঙ্গলবার দিনের শুরুতে সাময়িক বন্ধ থাকার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিমান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি বা জিসিএএ দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডাব্লিউএএম জানিয়েছে যে জিসিএএ নিশ্চিত করেছে বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমাজুড়ে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
জিসিএএ আরও জানিয়েছে যে বিমান চলাচলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের নিরবচ্ছিন্ন রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে এক হাজার নয়শটিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরান মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবহন ও তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। সম্প্রতি একটি ড্রোন হামলার পর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুন লেগে যায় এবং এর ফলে সোমবার সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়। এই ড্রোন হামলার কারণে এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম তেল সংরক্ষণাগার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ বন্দরেও আগুন ধরে যায়। শহরটির মিডিয়া অফিস জানিয়েছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি গাড়িতে রকেট হামলার কারণে একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করার পর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব ও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলা চালানো হয়। সোমবার বিবিসি গ্লোবাল নিউজ পডকাস্টে বিবিসি সংবাদদাতা আজাদেহ মোশিরি বলেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করছে তাদেরকে অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে ইরান হয়তো ধারণা করছে এই ধরনের চাপের কারণেই এখানকার নেতারা যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন। তবে বাস্তবতা হলো এখানকার কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।
মোশিরি আরও জানান যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে অনেক সময় লেগেছে। কিন্তু বর্তমানে এটি একাধিক আঘাতের সম্মুখীন হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
এ এম/ ১৭ মার্চ ২০২৬









