জাতীয়

কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়, নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়ছে ট্রেন

ঢাকা, ১৭ মার্চ – পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। যাত্রীদের একটি বড় অংশ আগেই পরিবারকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং এখন নিজেরা রওনা হচ্ছেন। ১৬ মার্চ সরকারিভাবে শেষ কর্মদিবস হওয়ায় রাত থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিটি ট্রেন যাত্রীতে পরিপূর্ণ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন দেরিতে ছাড়ার খবর পাওয়া যায়নি। ফলে ভিড় থাকলেও যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি দেখা গেছে।

১৭ মার্চ মঙ্গলবার ভোর থেকেও কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের চাপ অব্যাহত ছিল। এদিন ভোর ৬টায় রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকা ছেড়ে যায়। এরপর যথাক্রমে ৬টা ৪৫ মিনিটে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, সোয়া ৭টায় খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, সাড়ে ৭টায় কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্দুর প্রভাতী এবং সকাল ৮টায় দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

বিনা টিকিটে ভ্রমণ রোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবার বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্টেশনে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিন ধাপে টিকিট যাচাই করা হচ্ছে। টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করে তারপর প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হচ্ছে।

খুলনাগামী যাত্রী আহসান হাবিব শিমুল জানান যে তিনি সেহরি খেয়েই স্টেশনে চলে এসেছেন। তিনি বলেন তার অনেক সহকর্মী আগেই পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়েছেন। তিনিও তার বাবা মা এবং স্ত্রীকে আগেই পাঠিয়েছেন এবং নিজে আজ রওনা হচ্ছেন। ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে আসায় তিনি বেশ আনন্দিত।

লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রী তাজুল ইসলাম জানান যে ভিড় এড়াতে তিনি আজ সকালে এসেছেন। প্ল্যাটফর্মে ঢোকার ক্ষেত্রে টিকিট যাচাইয়ের কড়াকড়ির বিষয়টি তার কাছে খুব ইতিবাচক মনে হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ টিটিই আফতাব জানান যে টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কোনো পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে নির্ধারিত ভাড়ায় অতিরিক্ত যাত্রীর জন্য স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং বিনা টিকিটের যাত্রী ঠেকাতে প্রবেশপথে দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য ২০ বা ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর ধরে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করেছিল। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার ১৮ মার্চকেও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে। ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি উপভোগ করছেন। তবে ১৫ ও ১৬ মার্চ অফিস খোলা থাকায় অনেকেই পরিবারের সদস্যদের আগেভাগেই গ্রামে পাঠিয়ে দেন।

কমলাপুরের পাশাপাশি আশপাশের বাস কাউন্টারগুলোতেও যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে।

এনএন/ ১৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language