জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিকে স্বাগত জানালেন জামায়াত আমির

ঢাকা, ১৬ মার্চ – দেশে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সাধুবাদ জানান।

ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একসময় কার্যত নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। নদীগুলো সচল থাকায় যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং কৃষিক্ষেত্রে এগুলো বিশাল নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করত। পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ রক্ষা, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং বর্ষাকালে পানিপ্রবাহ সঠিক থাকার কারণে ঘন ঘন বন্যা ও এজনিত দুর্ভোগের প্রকোপ কম ছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে একদিকে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব, অন্যদিকে প্রধান নদীসহ সব গুরুত্বপূর্ণ নদনদী, খাল ও বিল ভরাট হওয়ার কারণে স্রোতস্বিনী নদীগুলো এখন ভরা মৌসুমে পানি ধারণ করতে পারে না। এর ফলে অকাল বন্যা দেখা দেয় এবং শুকনা মৌসুমে নদীগুলো মরুভূমির রূপ ধারণ করে। বর্ষায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এমনকি প্রধান শহর ও নগরগুলোও পানিতে তলিয়ে যায়। আবার শুকনা মৌসুমে নৌ চলাচল ও কৃষিকাজের জন্য যখন পানির প্রয়োজন হয়, তখন ন্যূনতম চাহিদা মেটানোর মতো পানি থাকে না। দেশ বাঁচাতে হলে প্রধান নদীগুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেজিং সম্পন্ন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি মনে করেন, সরকারের উচিত দেশ বাঁচানোর স্বার্থে নদনদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

জামায়াত আমির বলেন, অতীতে ড্রেজিং, নদীশাসন ও নদী সংস্কারের নামে বাজেট বরাদ্দ হলেও লুটপাটতন্ত্রের কারণে তার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসীর আমানত সর্বোত্তম পন্থায় এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজে লাগানো সরকারের দায়িত্ব।

সরকার মূলত দেশবাসীর পক্ষে সব কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থাপকের ভূমিকা পালন করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, খাল খননের প্রকৃত সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন নদীগুলো প্রাণ ফিরে পাবে এবং তাদের নাব্যতা পুনরুদ্ধার হবে। তা না হলে খাল খনন কর্মসূচি থেকে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।

এ এম/ ১৬ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language