মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন: সস্তা অস্ত্রে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নাজেহাল করার কৌশল

তেহরান, ৭ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরানের সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘শাহেদ’ ড্রোন। কামিকাজে বা আত্মঘাতী ঘরানার এই ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে তেহরান। সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত ও দুর্বল করার পর বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পথ তৈরি করাই ইরানের মূল লক্ষ্য।

গত সপ্তাহে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যাধুনিক মার্কিন প্রযুক্তির সহায়তায় উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো ইরানের হামলা প্রতিহত করতে পারছে। তবে হামলার তীব্রতায় কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোর অস্ত্র ভাণ্ডারে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একটি সাধারণ ড্রোন বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে প্যাট্রিয়ট বা থাড সিস্টেমের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক ইন্টারসেপ্টর খরচ করতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

সিএনএন-এর তথ্যমতে, গত বুধবার পর্যন্ত ইরান অন্তত দুই হাজার শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। একবার ব্যবহারের জন্য তৈরি এই ড্রোনগুলো লক্ষ্যে আঘাত হানার পর ধ্বংস হয়ে যায়। সামরিক বিশ্লেষকরা একে ‘গরিবের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সিএনবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, একটি শাহেদ ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর তৈরিতে খরচ হয় ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ডলার। খরচের এই বিশাল ব্যবধান ইরানকে কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে।

ইরান সপ্তাহে প্রায় এক হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রাখে। ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফাবিয়ান হফম্যান জানান, ইরানের হামলা ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলো প্রচুর ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়া কঠিন। তাঁর মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে প্রায় এক হাজার, কুয়েতের কাছে পাঁচশ এবং বাহরাইনের কাছে মাত্র একশ ইন্টারসেপ্টর মজুত রয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিসজা বাজিলজিক মন্তব্য করেন, যুদ্ধের প্রাথমিক ধাপে সস্তা ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করাই ইরানের কৌশল। এরপর মজুত থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বড় হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে তেহরানের। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে উন্নত প্রযুক্তির অভাবে ইরান কতদিন এই হামলা চালিয়ে যেতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মূলত মার্কিন মূল ভূখণ্ডের পরিবর্তে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে চাপ সৃষ্টি করাই এখন ইরানের প্রধান লক্ষ্য।

এস এম/ ৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language