খামেনির মৃত্যুতে ইরানে শোকের ছায়া, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে বিশাল বিক্ষোভ

তেহরান, ৬ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান যৌথ হামলা উপেক্ষা করে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে শোক পালন করেছেন হাজারো মানুষ।
পবিত্র রমজান মাসের তৃতীয় জুমায় তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে সমবেত হয়ে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
সাত দিন আগে শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম জুমার বড় কোনো ধর্মীয় সমাবেশ। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের হাতে ছিল প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি এবং তারা তাকে ‘তাকওয়া ও অভিভাবকত্বের মূর্ত প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকলেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে কোনো ভাটা পড়েনি। কালো পোশাকে সজ্জিত নারী ও পুরুষরা ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে মসজিদের বাইরের চত্বরে জমায়েত হন এবং যুদ্ধের প্রতিবাদে বিশাল মিছিলে অংশ নেন।
এদিকে ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মসজিদের খতিব শেখ ইকরিমা সাবরি। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ও সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী কঠোর প্রতিশোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বর্তমানে সংঘাত সপ্তম দিনে গড়িয়েছে এবং সমগ্র ইরানজুড়ে শোক ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে।
এম ম/ ৬ মার্চ ২০২৬









